সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশনের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার বদলে মুখ্যমন্ত্রী উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন। তাঁর বক্তব্যের জেরেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং হিংসার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে (Election Commission)।
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) হলফনামায় বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে এমন ভাষায় কথা বলছেন, যা সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে প্ররোচিত করছে। কমিশনের অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্যের পর থেকেই ব্লক স্তরের আধিকারিক ও ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা ভয় ও চাপে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
কমিশনের (Election Commission) দাবি অনুযায়ী, গত ১৪ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী একটি সাংবাদিক বৈঠকে এক জন মাইক্রো অবজার্ভারের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করেন। এর পরের দিনই উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায় বিডিও অফিসে প্রায় ৭০০ জন দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। অফিসে ভাঙচুর করা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও নথিপত্র নষ্ট করে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ১৪ জানুয়ারি মোট ৯ জন মাইক্রো অবজার্ভার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেন বলে কমিশনের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মীদের প্ররোচনায় একদল মহিলা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত আধিকারিকদের ঘেরাও করে স্লোগান দিচ্ছেন এবং কাজে বাধা দিচ্ছেন।
পাশাপাশি কমিশনের আরও অভিযোগ, ব্লক লেভেল অফিসাররা থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে স্থানীয় পুলিশ অনেক ক্ষেত্রেই এফআইআর নিতে চাইছে না। অন্য রাজ্যগুলির তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে এই হলফনামার ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।












