মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনার পর এখনও আতঙ্কে রয়েছেন বেঁচে ফেরা যাত্রীরা (Boat Tragedy)। আনন্দ ভ্রমণে বেরিয়ে এমন মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। বর্গি জলাধারে যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনদিন ধরে চলে উদ্ধারকাজ। যারা কোনওভাবে বেঁচে ফিরেছেন, তাঁদের মনে এখনও সেই ভয়াবহ মুহূর্ত ঘুরে বেড়াচ্ছে (Boat Tragedy)।
একজন যাত্রী জানান, হঠাৎ বড় বড় ঢেউয়ের মধ্যে পড়ে যায় নৌকাটি (Boat Tragedy)। প্রায় আধঘণ্টা ধরে নৌকার ভিতরে সবকিছু এদিক-ওদিক ছিটকে যাচ্ছিল। যাত্রীদের হাতে তড়িঘড়ি লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়। অনেকেই বলেন, ওই লাইফ জ্যাকেট না থাকলে হয়তো কেউই বাঁচতেন না। নৌকার একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেকেই সাঁতরে তীরে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। ভাগ্য ভালো থাকায় কিছু মানুষ প্রাণে বেঁচে যান।
দুর্ঘটনার পর নৌকার ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, কীভাবে বিপদের সময় আচরণ করতে হবে, সে বিষয়ে যাত্রীদের কোনও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়নি। উদ্ধারকারী নৌকা আসতেও দেরি হয়েছে। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে (Boat Tragedy)। আবহাওয়া খারাপ হতে পারে, এমন সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও যাত্রা বন্ধ করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামনে আসে। এক মা তাঁর ছোট ছেলেকে জড়িয়ে নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই ভেঙে পড়েন। প্রথমে ৯ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও ৪ জনের দেহ পাওয়া যায়, যার মধ্যে একটি ছোট শিশুও রয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩।
যারা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন, তাঁদের দাবি, আরও ভালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এত প্রাণহানি এড়ানো যেত। এই ঘটনার পর নৌকা চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।













