বাংলায় নতুন সরকার গঠনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামও (Bengal Ministers) ঘোষণা করেছে বিজেপি। রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখেই মন্ত্রী নির্বাচন করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা (Bengal Ministers)।
শুভেন্দু অধিকারীর পর মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ। বঙ্গ বিজেপির উত্থানের পিছনে যাঁর বড় ভূমিকা ছিল, সেই দিলীপ দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। আরএসএস প্রচারক থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়া, তারপর রাজনৈতিক লড়াইয়ের নানা পর্ব পেরিয়ে আবারও প্রথম সারিতে ফিরলেন তিনি। খড়গপুর সদর থেকে জয়ের পর এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন দিলীপ (Bengal Ministers)। রাজনৈতিক মহলের মতে, সঙ্ঘ পরিবারের প্রতিনিধিত্বের দিকটিও মাথায় রাখা হয়েছে।
এরপর শপথ নেন অগ্নিমিত্রা পাল। নতুন মন্ত্রিসভায় মহিলা মুখ হিসেবে তাঁর নাম বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা একসময় ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। আন্দোলন, সভা-মিছিল এবং বিধানসভায় ধারাবাহিক সক্রিয়তার ফলেই এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন তিনি।
মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন জঙ্গলমহলের নেতা ক্ষুদিরাম টুডুও (Bengal Ministers)। রানিবাঁধের বিধায়ক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করেছেন। শপথ নেন অলচিকি ভাষায়। আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে মন্ত্রী করা বিজেপির বড় রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। জঙ্গলমহলে সংগঠন আরও শক্ত করতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
এরপর মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই তাঁকে সামনে এনে বিজেপি মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে আরও শক্ত অবস্থান নিতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগেই শান্তনু ঠাকুরকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করা হয়েছিল। এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভাতেও মতুয়া সমাজের প্রতিনিধিকে জায়গা দিল বিজেপি।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নিশীথ প্রামাণিকও। একসময় তৃণমূলে থাকলেও পরে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। উত্তরবঙ্গে বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। রাজবংশী সমাজের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তাও বিজেপির পক্ষে বড় শক্তি। আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব সামলানোর পর এবার রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন নিশীথ।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মধ্য দিয়ে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিল, বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ও সমাজের প্রতিনিধিদের সামনে রেখেই তারা আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ সাজাতে চাইছে।












