স্বাধীনতার পর এই প্রথম সিউড়ির রাজনৈতিক ইতিহাসে যুক্ত হল নতুন অধ্যায়। জেলার মুকুটে জুড়ল পূর্ণমন্ত্রীর পালক। সেই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সিউড়িরই ভূমিপুত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chatterjee)। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই এবং জনসংযোগের পথ পেরিয়ে এবার তিনি রাজ্যের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন।
রাজনীতিতে আসার আগে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chatterjee) পরিচিত ছিলেন একজন সাংবাদিক হিসেবে। বিশেষ করে প্রশাসনিক সংবাদ পরিবেশনে তিনি নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন রাজ্য প্রশাসন এবং নবান্নের খবর কভার করেছেন তিনি। সাংবাদিকতা জীবনে তাঁর কাজের প্রশংসা হয়েছিল বিভিন্ন মহলে।
পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের পেশা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন জগন্নাথ (Jagannath Chatterjee)। রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছিল তাঁকে। তবে সেই ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি। ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং সংগঠনের কাজে সক্রিয় ভূমিকার ফল হিসেবে এবার তিনি শুধু বিধায়কই নন, রাজ্যের মন্ত্রিসভাতেও জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জগন্নাথ (Jagannath Chatterjee)। পরে বিজেপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। গত কয়েক বছরে দলের হয়ে রাজ্যজুড়ে নানা বিষয়ে সরব হয়েছেন। বিশেষ করে দুর্নীতি ইস্যুতে শাসকদলের বিরুদ্ধে বারবার আক্রমণ শানিয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন এবং সাংগঠনিক কাজে তাঁকে নিয়মিত প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছে।
দলের ভিতরে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতারও স্বীকৃতি মিলেছে। প্রথমে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক এবং পরে রাজ্য সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠার পুরস্কার হিসেবেই এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ (Jagannath Chatterjee)।
দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয় না পেলেও জনসংযোগ এবং উন্নয়নমূলক কাজ থেকে দূরে সরে যাননি জগন্নাথ। জনপ্রতিনিধি না হয়েও সিউড়ির উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় স্তরে যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য উদ্যোগী হন।
তাঁর প্রচেষ্টাতেই দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা হাটজনবাজার রেল ওভারব্রিজ প্রকল্পের কাজে গতি আসে বলে স্থানীয়দের দাবি। পাশাপাশি সিউড়ি-শিয়ালদহ রুটে মেমু ট্রেন চালু, সিউড়ি স্টেশনের আধুনিকীকরণ এবং সিউড়ি-প্রান্তিক রেল প্রকল্পের স্থগিত কাজ পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতি, আর রাজনীতি থেকে মন্ত্রিত্ব— জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের এই দীর্ঘ পথচলা আজ সিউড়ির মানুষের কাছে গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। তাঁর মন্ত্রিত্বে জেলার উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই।






