মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা পরিকল্পনা করে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনায় আহত হয়েছেন চন্দ্রনাথের গাড়িচালকও। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি (Sajal Ghosh) দাবি করেন, এটি কোনও সাধারণ অপরাধ নয়, বরং পরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন। তাঁর অভিযোগ, পাড়ার গুণ্ডারা নয়, বরং বড় কোনও রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) আরও বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে পরিকল্পিত এবং এর পিছনে বড় চক্রান্ত থাকতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে একাধিক গুলি চালানো হয়েছে এবং এটি অত্যন্ত সংগঠিতভাবে করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে দোহরিয়া এলাকায় নিজের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। সেই সময় একটি চারচাকা গাড়ি তাঁর পথ আটকায়। এরপর দুটি বাইকে করে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী এলোপাথাড়ি গুলি চালায় বলে অভিযোগ। হামলার পর তারা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মোট তিনজন আততায়ী এই ঘটনায় জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। দুটি বাইকে করে তারা আলাদা দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। একটি বাইক যশোর রোডের দিকে চলে যায়, অন্যটি কোন দিকে গেছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। একটি বাইকের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট হওয়ায় পরিচয় জানা কঠিন হচ্ছে।
এদিকে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং রাজনৈতিক শক্তির পালাবদলের আবহে এই ঘটনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশ পুরো ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছে এবং বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত চালাচ্ছে।












