তৃণমূলের প্রায় চারশো চল্লিশ কোটি টাকা থাকা ব্যাঙ্ক হিসাব ফ্রিজ করার মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। অভিযোগ দায়েরের সময় এবং তার পরদিনই ব্যাঙ্ক হিসাব ফ্রিজ করার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। একই সঙ্গে শরৎ বোস রোডের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ককে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত (Calcutta High Court)। অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার আগে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। পাশাপাশি আগামী মঙ্গলবার তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্টও আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে বিচারপতি বলেন, এই পর্যায়ে অভিযোগের গভীরতা নিয়ে আদালত কোনও মন্তব্য করছে না। তবে যে ব্যাঙ্ক হিসাবগুলি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি তদন্তের স্বার্থে ফ্রিজ রাখা কতটা প্রয়োজন, তা আদালত খতিয়ে দেখবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভিযোগের ভিত্তি যদি ব্যাঙ্ক হিসাবের লেনদেন হয়, তাহলে তদন্তে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটাও স্পষ্ট হওয়া দরকার (Calcutta High Court)।
তৃণমূলের পক্ষের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জানান, পুলিশ কোনও রাজনৈতিক দলের দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারে না। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যুৎ, জল এবং অন্যান্য জরুরি খরচ চালানোর জন্য ব্যাঙ্ক হিসাব চালু রাখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে হিসাব জব্দ করা যেতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত নয়।
শুনানির সময় বিচারপতি (Calcutta High Court) জানতে চান, সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক হিসাবে মোট কত টাকা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বিশেষ আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করার বিষয়ও বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ব্যাঙ্ক হিসাব থেকে কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
রাজ্য পুলিশের পক্ষে সওয়াল করে তুষার মেহতা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থের লেনদেন এবং অর্থ সরানোর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ২৮ জুন সন্ধ্যায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরের দিন সকালেই কীভাবে এত দ্রুত ব্যাঙ্ক হিসাব ফ্রিজ করা হল। অভিযোগের আগে যদি নির্দিষ্ট কোনও অপরাধের অভিযোগ না থাকে, তাহলে এত দ্রুত এই পদক্ষেপের ভিত্তি কী ছিল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি (Calcutta High Court)।
তৃণমূলের পক্ষের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে বলেন, একটি চলতি রাজনৈতিক দলের আর্থিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হলে দলের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হবে। অন্যদিকে অভিযোগকারীর আইনজীবী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক হিসাবে বেআইনি অর্থ জমা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পদক্ষেপকে ভুল বলা যায় না।
শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। তুষার মেহতা আদালতে দাবি করেন, বর্তমানে দুই পক্ষ নিজেদের তৃণমূলের প্রকৃত নেতৃত্ব বলে দাবি করছে। সেই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক হিসাব ব্যবহার করার অধিকার কার, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এরপরই আদালত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং পরবর্তী শুনানির আগে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট চেয়ে পাঠায়।










