দার্জিলিংয়ে (Darjeeling) সাহসিকতার এক বিরল নজির গড়লেন এক বৃদ্ধা। ক্ষিপ্ত চিতাবাঘের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা লড়াই করে তিনি নিজের আট বছরের নাতি এবং প্রিয় পোষ্য কুকুরের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েননি তিনি। তাঁর এই সাহসিকতার কাহিনি এখন গোটা এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে (Darjeeling)।
বুধবার সন্ধ্যায় খাওয়াদাওয়া শেষ করে বাড়ির দরজা বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন লোয়ার ভুটিয়া বস্তির দেবকোটা গ্রামের বাসিন্দা দেবিকা শেরপা (Darjeeling)। সেই সময় আচমকাই একটি ক্ষিপ্ত চিতাবাঘ তাঁদের বাড়ির সামনে চলে আসে। প্রথমে দেবিকার আট বছরের নাতি এবং পরে পোষ্য কুকুরটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বন্যপ্রাণীটি।
এক মুহূর্ত দেরি না করে নাতি ও পোষ্যকে বাঁচাতে চিতাবাঘের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েন দেবিকা শেরপা (Darjeeling)। দীর্ঘ সময় ধরে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যান তিনি। চিতাবাঘের ধারালো নখ ও দাঁতের আঘাতে তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর চোট লাগে। তবুও তিনি লড়াই থামাননি। শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধার প্রতিরোধের মুখে চিতাবাঘটি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। নাতি এবং পোষ্য দুজনেই প্রাণে বেঁচে যায় (Darjeeling)।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় দেবিকা শেরপাকে (Darjeeling) দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর ডান হাত ভেঙে গেছে। বাঁ হাতে গভীর ক্ষত রয়েছে এবং মাথাতেও আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়েই দেবিকা বলেন, মানুষ আক্রান্ত হলে বন বিভাগের আরও দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিত। তাঁর দাবি, যে চিতাবাঘটি হামলা চালিয়েছে, তাকে দ্রুত ধরার ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও পরিবার এমন বিপদের মুখে না পড়ে।
অন্যদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর দেখা গিয়েছে, চিতাবাঘটি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত অবস্থায় রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে তাকে আটক করা সহজ নয়। তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।













