পাকিস্তান (Pakistan) তাদের নৌবাহিনীতে প্রথম ‘হ্যাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিন যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সমুদ্র প্রতিরক্ষা শক্তি আরও বাড়ানোর দিকে বড় পদক্ষেপ নিল তারা। চিনের সঙ্গে হওয়া এক চুক্তির ভিত্তিতে মোট আটটি এই ধরনের সাবমেরিন পাওয়ার কথা পাকিস্তানের।
এই সাবমেরিনগুলি চিনের একটি আধুনিক নকশার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে, যেমন টর্পেডো ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি এতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে সাবমেরিন দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকতে পারে এবং সহজে ধরা পড়ে না। এতে যুদ্ধের সময় গোপন অভিযান চালানো আরও সহজ হবে (Pakistan)।
চিনের সান্যা বন্দরে এই সাবমেরিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের বহু উচ্চপদস্থ আধিকারিকও সেখানে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের চিন সফরও বেড়েছে (Pakistan)।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, এই সাবমেরিন যুক্ত হওয়া দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। রাষ্ট্রপতি জারদারি এটিকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এটি দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
নৌবাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে ঝুঁকি বাড়ছে। এই নতুন সাবমেরিন সেই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এবং আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে (Pakistan)।
‘হ্যাঙ্গর’ নামটিরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে পাকিস্তানের কাছে। একাত্তরের যুদ্ধে একটি সাবমেরিন ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছিল বলে তাদের দাবি, সেই স্মৃতিতেই এই নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান তার সাবমেরিন শক্তির উপর নির্ভর করছে। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে টানাপোড়েনের পরিস্থিতিতে এই নতুন সংযোজন তাদের সামরিক কৌশলে বড় ভূমিকা নেবে।













