যুদ্ধ পরিস্থিতি কাটাতে ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক (Iran War) হলেও শেষ পর্যন্ত কোনও সমাধান মেলেনি। দীর্ঘ আলোচনার পরও রফাসূত্র না মেলায় বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে এখানেই শেষ নয়, খুব শিগগিরই আবার দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। সেই বৈঠকও ইসলামাবাদেই হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এই পরিস্থিতিতে বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানে (Iran War) পৌঁছেছেন। বুধবার সকালে বিশেষ বিমানে করে তিনি তেহরানে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। ইরানে পৌঁছানোর পর তাঁদের স্বাগত জানান সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই আমেরিকার তরফে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে (Iran War)। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা আনার ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই আবার ইসলামাবাদে আলোচনার টেবিলে বসতে পারে ইরান ও আমেরিকা। সেই বৈঠকে কোনও সমাধান বেরোয় কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
এদিকে একটি রিপোর্টে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগেই হরমুজ প্রণালীর একটি অংশ খুলে দিতে পারে ইরান। তেহরানের একটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘ যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আগ্রহী ইরান। তাই ওমানের দিকের জলপথ খুলে দেওয়ার কথা ভাবছে তারা। যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তাহলে ওই পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।
তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। ইরান যে সমস্ত মাইন পেতে রেখেছে, সেগুলি সরানো হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি আমেরিকা ও ইজরায়েলের জাহাজকে ওই পথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া আমেরিকার অন্যতম বড় শর্ত ছিল। যদি ইরান সত্যিই এতে রাজি হয়, তাহলে আগামী বৈঠকে বড় কোনও সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরাসরি কিছু জানায়নি আমেরিকা।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে নজর এখন আসন্ন বৈঠকের দিকে, যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।









