ভোটের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, তার আগেই বীরভূমে (Birbhum) ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব। জেলার দুই প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখের মধ্যে চাপা টানাপোড়েন আবার সামনে চলে এসেছে। হাসন কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখ কার্যত অনুব্রত মণ্ডলের প্রভাব নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন।
সম্প্রতি কাজল শেখ মন্তব্য করেন, বীরভূমে এখন আর গুড়-বাতাসা বা পুরনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে (Birbhum)। যদিও এই প্রসঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কে কোথায় কী বলছে, তার জবাব দেওয়ার প্রয়োজন তিনি মনে করেন না।
একসময় অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন কাজল শেখ (Birbhum)। কয়লা পাচার মামলায় অনুব্রত গ্রেপ্তার হয়ে জেলে থাকাকালীন ধীরে ধীরে নিজের প্রভাব বাড়ান কাজল। পরে অনুব্রত জামিনে ছাড়া পেয়ে জেলায় ফিরলেও দলের দায়িত্বে দু’জনকেই রাখা হয়। দলের তরফে বারবার জানানো হয়েছে, সব গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তবে বাস্তবে সেই নির্দেশ পুরোপুরি মানা হচ্ছে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কয়েকদিন আগেই সিউড়িতে একটি সভায় একই মঞ্চে থাকলেও অনুব্রত এবং কাজলের মধ্যে দূরত্ব চোখে পড়ে। জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের একসঙ্গে কিছু বলতে চাইলে অনুব্রত সরে যান অন্যদিকে (Birbhum)।
এরপর কাজল শেখ আরও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বীরভূমে এখন আর অনুব্রত মণ্ডল কোনও বড় প্রভাব ফেলেন না এবং তাঁর প্রচারে না এলেও সমস্যা হবে না। এই মন্তব্যে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে জেলার রাজনীতিতে।
এর জবাবে অনুব্রত বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন জায়গায় সভা করছেন এবং দলের নির্দেশ অনুযায়ী অন্য জেলাতেও প্রচারে যাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি নিজের কাজ করে যাচ্ছেন, অন্য কারও মন্তব্য নিয়ে ভাবছেন না।
ভোটের মুখে এই ধরনের অন্দরের দ্বন্দ্ব তৃণমূলের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে। বীরভূমে সব আসন জেতার লক্ষ্য নিয়েছে দল, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য কতটা পূরণ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।













