মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের খবরের মাঝেই ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) একের পর এক মিসাইল উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সিংভূম জেলায় গত দুই মাসে ইতিমধ্যেই তিনটি মিসাইল সদৃশ বস্তু উদ্ধার হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে বাহারাগোড়া থানার অন্তর্গত সুবর্ণরেখা নদীর ধারে, যেখানে একটি বড় ধাতব বস্তু উদ্ধার ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে (Jharkhand)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানিপোদা গ্রামের কয়েকজন জেলে প্রতিদিনের মতো নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন (Jharkhand)। সেই সময় নদীর মাঝখানে একটি অস্বাভাবিক বড় ধাতব বস্তু দেখতে পান তাঁরা। কৌতূহলবশত সেটিকে টেনে নদীর ধারে নিয়ে আসেন। কাছ থেকে দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়, এটি একটি মিসাইল হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানান।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। নিরাপত্তার জন্য এলাকাবাসীদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে নদীর আশপাশে সাধারণ মানুষের যাতায়াতও সীমিত করা হয়েছে (Jharkhand)।
স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধার হওয়া বস্তুটির ওজন প্রায় দুইশো কেজি বা তারও বেশি হতে পারে। পরপর এই ধরনের ঘটনা ঘটায় আতঙ্ক বেড়েছে এলাকার মানুষের মধ্যে। এর আগে মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়েও সুবর্ণরেখা নদীর তীর থেকে একটি মিসাইল উদ্ধার হয়েছিল। এরপর মাসের শেষের দিকে আরও একটি একই ধরনের বস্তু পাওয়া যায়। সেই দু’টি ক্ষেত্রে সেনার বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এসে সেগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই মিসাইলগুলি সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার। দীর্ঘদিন মাটির নীচে বা নদীর তলায় চাপা পড়ে থাকা সেই বিস্ফোরক এখন ধীরে ধীরে সামনে আসছে। ফলে ভবিষ্যতে আরও এমন বিপজ্জনক বস্তু উদ্ধার হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে গোটা এলাকায় বিস্তৃত তল্লাশি চালানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নদী এবং আশপাশের এলাকায় পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা করা না হলে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।













