Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • জেলা
  • কেন এনকাউন্টারে মরতে হলে প্রভাস মণ্ডল! প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
জেলা

কেন এনকাউন্টারে মরতে হলে প্রভাস মণ্ডল! প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

encounter edit
Email :2

বারুইপুরে (Baruipur) নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের তদন্তে গভীর রাতে নাটকীয় মোড় এল। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল মামলার অন্যতম অভিযুক্তের। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পর অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায় সে। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় পৌনে একটা নাগাদ তদন্তকারী দল অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে (Baruipur) পৌঁছয়। এলাকা ছিল জলাজঙ্গল ও ঘন আগাছায় ঘেরা। সেখানেই অপরাধের পুনর্নির্মাণের প্রস্তুতি চলছিল। সেই সময় আচমকা অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর বন্দুক কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এরপর পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। সেই গুলিতেই গুরুতর জখম হয় অভিযুক্ত।

তদন্তকারীদের দাবি, এই অভিযুক্তের ভূমিকা গোটা ঘটনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এলাকার একটি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় নাবালিকার সঙ্গে প্রথম তাকে দেখা যায়। সেই ফুটেজ হাতে পাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে শনাক্ত করেন (Baruipur)। অভিযোগ, টাকার লোভে নাবালিকাকে মূল অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল সে। পরে আরও একটি সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তকারীদের হাতে আসে, যেখানে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলের দিকেই যেতে দেখা যায়। সেই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোয়।

পুলিশের দাবি, জেরার সময়ও অভিযুক্ত প্রথমে তদন্তে সহযোগিতা করেনি। বারবার বয়ান বদলে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। পরে চাপের মুখে সে অন্য অভিযুক্তদের নাম জানায়। সেই সূত্র ধরেই আরও কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। তদন্তকারী দলের দাবি, অভিযুক্তের একাধিক বয়ানে অসঙ্গতি ছিল, যা তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দিকে এগিয়ে দেয় (Baruipur)।

তদন্তকারীদের মতে, অভিযুক্ত গোটা এলাকা খুব ভালোভাবে চিনত। জলাজঙ্গল, সরু রাস্তা এবং স্টেশনে পৌঁছানোর বিকল্প পথ সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা ছিল। পুলিশের অনুমান, সেই কারণেই বন্দুক ছিনিয়ে গুলি চালানোর পর সে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তার আগেই পুলিশের পাল্টা গুলিতে সে জখম হয়।

এই ঘটনার পর প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক অরিন্দম আচার্য বলেন, আত্মরক্ষার প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। তাঁর মতে, এই ঘটনায় পুলিশ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।

এর আগেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, এই ঘটনায় সরকারের অবস্থান সম্পূর্ণ কঠোর। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তদন্তের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার বাবাও। তাঁর কথায়, পুলিশের তদন্তের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তিই তাঁদের একমাত্র দাবি।

এদিকে, এই মামলায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, এনকাউন্টারে নিহত অভিযুক্তের মা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে গুরুতর অপরাধ করেছে। তাই তিনি ছেলের দেহও নিতে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Related Tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts