দেশজুড়ে এসআইআর (SIR) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নিয়মে বড় পরিবর্তন করল নির্বাচন কমিশন। দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে যাঁদের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাঁদের আর সাধারণ ভাবে সশরীরে শুনানির জন্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে যেতে হবে না। পরিবর্তে বুথ স্তরের আধিকারিকেরা সংশ্লিষ্ট ভোটারের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন।
শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বৈঠক হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী বৈঠকে ছিলেন। সেই বৈঠকের পরেই এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
যাঁরা যুক্তিগত অসঙ্গতি (SIR) বা অন্য কোনও কারণে নোটিস পেয়েছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে আর নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে ছুটতে হবে না। বুথ স্তরের আধিকারিকেরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে নথি সংগ্রহ করবেন এবং সেই নথি সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থায় আপলোড করবেন। নথি যাচাই করে আধিকারিকেরা যদি মনে করেন যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বৈধ ভোটার, তা হলে তাঁর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে কোনও ক্ষেত্রে জমা দেওয়া নথি যথেষ্ট নয় বলে মনে হলে শুনানির প্রয়োজন হতে পারে (SIR)। সেই ক্ষেত্রেও আগের মতো প্রত্যেককে সশরীরে হাজির হতে হবে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে অনলাইনে শুনানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে কমিশন জানিয়েছে। বয়স্ক বা অসুস্থ ভোটারদের ক্ষেত্রে তাঁদের হয়ে অন্য কেউ অনলাইন শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।
এসআইআর-এর নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তনের পাশাপাশি দিল্লিতে দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অনুরোধে এই সময়সীমা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নোটিস এবং দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির শেষ তারিখ করা হয়েছে ৩০ নভেম্বর।
মহারাষ্ট্রেও দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেখানে এই প্রক্রিয়ার জন্য ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নোটিস এবং দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির সময়সীমা ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ফলে দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে এসআইআর-এর আওতায় থাকা ভোটারদের জন্য এখন বাড়িতে নথি যাচাই এবং বিশেষ ক্ষেত্রে অনলাইন শুনানির সুযোগ তৈরি হল। ভোটার তালিকায় নাম নিয়ে নোটিস পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে নথি যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারদের সরাসরি দফতরে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমতে পারে।











