হাইকোর্টের বিশেষ অনুমতি নিয়ে হুগলির শ্রীরামপুরে এক বিশাল জনসভায় উপস্থিত হয়ে কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর সঙ্গে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবেক বিধায়ক অসিত মজুমদার ও দোলা সেনের মতো হেভিওয়েট নেতারা। মঞ্চে দাঁড়িয়েই মমতা অভিযোগ করেন, তিনি (Mamata Banerjee) আসার খবর পেতেই উত্তরপাড়া ও জিটি রোড জ্যাম করে রাখা হয়েছিল এবং এলাকা থেকে প্রায় দেড়শো থেকে দুশো জন কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি টুম্পাই নামের এক ছোট্ট মেয়েকেও বাদ দেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গে পুলিশ আধিকারিকদের নাম না করে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি (Mamata Banerjee) বলেন, আজ ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরা হয়েছে, তেমনই অন্যায়কারীদের নামও রেকর্ড করা আছে এবং বিপদের দিনে বিজেপির লুম্পেনরা তাঁদের বাঁচাতে আসবে না। শ্রীরামপুরের এই আইনি লড়াই জিতে সভার অনুমতি আনার জন্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য দলের কেন সভা করার অধিকার থাকবে না, মনে রাখা উচিত দিল্লি কিন্তু টলমল করছে এবং ধর্মের কল বাতাসে নড়বেই।
এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মারাত্মক কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি (Mamata Banerjee) দাবি করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ এআই ব্যবহার করে প্রায় বস্তায় করে সাত লাখ নাম মুছে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বাংলা থেকে মোট ৯২ লাখ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সারা দেশে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ এর বলি হয়েছেন। পাশাপাশি হকারদের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও অন্নপূর্ণা যোজনার নিয়ম বদলে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করার বিষয়ে সোচ্চার হয়ে তিনি ঘোষণা করেন, এই লড়াই তিনি (Mamata Banerjee) নিজেই লড়বেন। মিষ্টি ও বিরিয়ানির দোকান থেকেও তোলা চাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার ওপর অত্যাচার চলছে এবং পুলিশকে দিয়ে বলপূর্বক এসব কাজ করানো হচ্ছে। নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং স্পষ্ট জানান, নির্বাচনের ফলে তারা হারেননি বরং ইভিএম হাইজ্যাক করে ও প্রচারমাধ্যমকে টাকা দিয়ে মিথ্যা খবর ছড়িয়ে তাঁদের জোর করে হারানো হয়েছে।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা (Mamata Banerjee) জানান, মানুষকে সাথে নিয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের আদালতেই বিচার চাওয়া হবে। আপনারা বাংলা দখল করেছেন, এবার তৃণমূল দিল্লি দখল করবে বলে হুঙ্কার ছাড়েন তিনি। আজাদি বা স্বাধীনতার কথা বললে গ্রেফতার করার হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁরা আজাদি বলবেনই কারণ আজাদি মানেই স্বাধীনতা। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে মমতা জানান, লাল-নীল নির্বিশেষে যে দলই এই ইস্যুতে তাদের পাশে দাঁড়াবে, তাদের সমর্থন করা হবে। এমনকি আমন্ত্রণের পর আগামী ৩০ তারিখ যৌথ বৈঠকে বসার কথা জানিয়ে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গেও আলোচনার ইঙ্গিত দেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জাতীয় স্তরে দলের অনুষ্ঠান না করে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্তরে তা করার পরামর্শ দেন।










