নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া চালুর ঘোষণা করেছিল। ছয় মাস পর দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ রাজ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও পশ্চিমবঙ্গে এখনও নানা জটিলতা রয়ে গেছে (Bengal Election)।
তালিকা যাচাই, অতিরিক্ত নামের তালিকা তৈরি—এই সব ধাপ পেরিয়ে বিষয়টি এখন আদালতের ট্রাইব্যুনালে গিয়ে পৌঁছেছে। ফলে শুধু ভোটার তালিকায় নাম থাকা নয়, এখন প্রশ্ন উঠছে ভোটাধিকার নিয়েই (Bengal Election)।
প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আবার প্রায় ৩৪ লক্ষ ভোটার নিজেদের নাম ফের যুক্ত করার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। আগামী এপ্রিলের ভোটের আগে এত বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি হওয়া কার্যত অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে (Bengal Election)।
এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। আদালত জানিয়েছে, সংবিধানের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাম নিষ্পত্তি না হলেও ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে (Bengal Election)।
একটি শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ভোটের জয়ের ব্যবধান ও বাতিল হওয়া ভোটারের সংখ্যার তুলনা তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন করেন, যদি ভোটে জয়ের মার্জিন খুব কম হয় কিন্তু বিপুল সংখ্যক ভোটার ভোট দিতে না পারেন, তাহলে তার প্রভাব কী হবে। তাঁর মতে, সচেতন কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেলে সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনগত মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এমন পরিস্থিতিতে কি আদালত ভবিষ্যতে হস্তক্ষেপ করতে পারে?
আইনজীবীদের একাংশের মতে, এটি গণতন্ত্রের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁদের যুক্তি, যদি জয়ের ব্যবধান কম হয় এবং বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা বেশি হয়, তাহলে ফলাফল নির্ধারণেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ভোটের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ থাকলে সংবিধান অনুযায়ী আদালতে ইলেকশন পিটিশন দায়ের করার সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে সেই পথেই সমাধান সম্ভব হতে পারে বলে তাঁদের মত।













