এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারি ও পদত্যাগের দাবিতে একজোটে সরব হয়েছে সমস্ত বিরোধী দলগুলি। আগামী বুধবার অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। কিন্তু সেই বৈঠকের আবহেই তৈরি হয়েছে এক বিরাট রাজনৈতিক জল্পনা, কারণ ইতিমধ্যেই সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি কথা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাংলায় ৩৪ বছরের বাম শাসনের ইতি টানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জাতীয় স্তরে সিপিআইএমের এই ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ পেতেই বঙ্গ রাজনীতিতে তুমুল কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। এই হাইভোল্টেজ ফোনালাপের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এবার তা নিয়ে মুখ খুলেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু (Biman Basu)।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিমান বসু (Biman Basu) অত্যন্ত সাধারণ ভঙ্গিতে জানান যে কমরেড বেবি ইন্ডিয়া জোটের সমস্ত শরিকদের চিঠি লিখেছেন এবং সেই ধারাবাহিকতাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বিমান বসুর কথায়, চিঠির উত্তর দিয়ে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি (Biman Basu) তাঁদের পাশে আছেন এবং বৈঠকে যোগ দেবেন, তাই এই স্বাভাবিক ঘটনা নিয়ে বাড়তি মন্তব্য করার কিছু নেই। তবে রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে এখন এক অভূতপূর্ব মেরুকরণ ঘটছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ইস্যু নিয়ে জাতীয় স্তরের পাশাপাশি আপ, ডিএমকে এবং বিজেডির মতো ইন্ডিয়া জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলিকেও পাশে টানার ক্ষেত্রে এম এ বেবি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শ্রীরামপুরের জনসভা থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বাংলায় জোট বা হাত ধরাধরি নিয়ে যা-ই আলোচনা চলুক না কেন, দিল্লির তখতে বিজেপিকে টেক্কা দিতে সিপিএম ও তৃণমূল যে জাতীয় স্তরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগোচ্ছে, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে গেল।










