বাংলার জনপ্রিয় ইউটিউবার তথা কনটেন্ট নির্মাতা কিরণ দত্ত (Kiran Dutta), যিনি ‘বং গাই’ নামে পরিচিত, ইনফ্লুয়েন্সারদের রাজনৈতিক যোগ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে সমাজমাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তার মধ্যেই কিরণ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি কোনও দিন ভিডিও তৈরি করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না।
কিরণ (Kiran Dutta) আরও লেখেন, তাঁকে যে জায়গায় তাঁর অনুগামীরা পৌঁছে দিয়েছেন, সেই সম্পর্কের সঙ্গে তিনি বেইমানি করতে পারবেন না। নদিয়ার একটি ছোট জায়গার ছেলে হিসেবে তাঁর পথচলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খারাপ সময়ে তাঁর অনুগামীরা পাশে থেকেছেন। তাই তাঁদের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি (Kiran Dutta)।
এই বিতর্কের সূত্রপাত বিজেপির প্রকাশিত নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ঘিরে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার সংক্রান্ত খরচের তালিকায় কনটেন্ট নির্মাতা শমীক অধিকারীর নামে ১৩ লক্ষ টাকা এবং সায়ক চক্রবর্তীর নামে আড়াই লক্ষ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।
এই তথ্য সামনে আসার পর সমাজমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে শমীক অধিকারীর তৈরি ‘বাটন’ নামের ভিডিও এবং সায়ক চক্রবর্তীকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গে ওই নির্বাচনী খরচের হিসাব মিলিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে। তবে কোনও নির্দিষ্ট ভিডিও ওই অর্থের বিনিময়ে তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে আলাদা করে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।
এই পরিস্থিতিতেই কিরণ দত্তের পোস্ট বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি কোনও দিন একটি ভিডিওও তৈরি করেননি। ভবিষ্যতেও এমন করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তাঁর দর্শক এবং অনুগামীরা তাঁকে যে জায়গা দিয়েছেন, সেই বিশ্বাসের সঙ্গে তিনি আপস করতে চান না।
কিরণ নিজের বক্তব্যে আরও জানান, তিনি নদিয়ার একটি ছোট জায়গা থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর কঠিন সময়ে অনুগামীরা পাশে থেকেছেন। সেই সম্পর্কের কথা মনে রেখেই তিনি তাঁদের সঙ্গে কোনও রকম বেইমানি করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, তিনি যা পেয়েছেন, তা তাঁর কাছে অনেক বেশি এবং তিনি সেই জায়গাতেই ভালো আছেন।
অন্যদিকে, নির্বাচনী খরচের এই হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর শমীক অধিকারী ও সায়ক চক্রবর্তীকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তরফে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে প্রকাশিত ব্যয়ের হিসাবের অর্থ কোন নির্দিষ্ট কনটেন্টের জন্য দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়টি নিয়ে পৃথক দাবিগুলিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ফলে ইনফ্লুয়েন্সারদের রাজনৈতিক প্রচারে ভূমিকা, নির্বাচনী প্রচারে তাঁদের জন্য ব্যয় এবং তাঁদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান—এই তিনটি বিষয় নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আবহে কিরণ দত্তের ‘কোনও রাজনৈতিক দলের টাকায় ভিডিও বানাইনি’ মন্তব্যও সমাজমাধ্যমে আলাদা করে নজর কেড়েছে।













