কলকাতা-সহ রাজ্যের সাতটি পুরসভায় (Municipal Election) নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হতে পারে বলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং। এই সাতটি পুরসভায় মোট ৬৩০১টি বুথে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। তবে ভোটের চূড়ান্ত দিন এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হয়নি। সাম্প্রতিক সূত্রের খবর, ২৭ থেকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে ভোট হতে পারে।
ভোটের (Municipal Election) প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। কোথায় কতগুলি ইভিএম প্রয়োজন, কত জন ভোটকর্মী লাগবে এবং নিরাপত্তার কী ব্যবস্থা করতে হবে, সেই বিষয়গুলি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে ইভিএম পাঠানোর কাজ শুরু হতে পারে।
প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি ভোটের (Municipal Election) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় নিয়েও জল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পুজোর ছুটির পর অক্টোবরের শেষ দিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই নিশ্চিত হবে।
এই সাতটি পুরসভার মধ্যে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অপেক্ষা রয়েছে। শেষ বার সেখানে পুরভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। পরে পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। প্রায় ১৩ বছর ধরে সেখানে নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। ফলে হাওড়ার পুরভোটকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই (Municipal Election)। প্রশাসক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সেখানে পুর পরিষেবা চালানো হচ্ছে। হাওড়া ছাড়াও দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি এমন পুরসভার তালিকায় রয়েছে দুর্গাপুর, বুনিয়াদপুর, পূজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি, বালি এবং ধূপগুড়ি-সহ আরও কয়েকটি পুরসভা। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই পুরসভাগুলির অধিকাংশেই শেষ বার নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে।
অন্য দিকে, আগামী বছরের শুরুতে রাজ্যের আরও ১১২টি পুরসভার পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন হয়নি এমন পুরসভা এবং মেয়াদ শেষ হতে চলা পুরসভাগুলিকে মিলিয়ে আগামী কয়েক মাসে একাধিক পুরভোট আয়োজন করতে হবে। সব মিলিয়ে ১২৭টি পুরসভার নির্বাচন সময়মতো সম্পন্ন করা রাজ্য প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ইতিমধ্যেই পুরভোটের জন্য ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস, আসন সংরক্ষণ, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, ইভিএম এবং ভোটকর্মী নিয়োগের মতো একাধিক প্রস্তুতি এগিয়েছে। কমিশনের আগের প্রস্তুতি বৈঠকেও এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
কলকাতা, হাওড়া-সহ সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হলে তার পরেই গণনার প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। তবে ভোটের দিন, বিজ্ঞপ্তি এবং গণনার চূড়ান্ত সময়সূচি কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই নিশ্চিত হবে।












