দু’দশকেরও বেশি সময়ের নির্বাসন কাটিয়ে গত মাসেই কলকাতায় ফিরেছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। একসময়ে যে শহর ছেড়ে তাঁকে চলে যেতে হয়েছিল, সেই কলকাতাতেই তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে তৈরি হয়েছিল আগ্রহ। এবার সেই কলকাতারই এক নামী স্কুলের দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে উঠে এল তসলিমা নাসরিনের বক্তব্য।
তসলিমা (Taslima Nasrin) নিজেই সামাজিকমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষায় গদ্যাংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। সেই অংশের উপর চারটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন করা হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গে দুটি করে উত্তর দেওয়া রয়েছে এবং সঠিক উত্তরটি বেছে নিতে বলা হয়েছে। এই অংশের জন্য মোট ১০ নম্বর রাখা হয়েছে।
তবে কোন স্কুলের প্রশ্নপত্রে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, তা নিজের পোস্টে জানাননি তসলিমা। তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, কলকাতায় ফিরে আসার অভিজ্ঞতা এবং নির্বাসনের সময়কার অনুভূতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশই পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে তসলিমা নিজেই মজার ছলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি (Taslima Nasrin) লেখেন, এত দিন তাঁকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া, শহর থেকে বের করে দেওয়া, তাঁর বই নিষিদ্ধ করা এবং তাঁর লেখা পড়তে না দেওয়ার কথা শুনেছেন। অথচ এখন তিনি দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে জায়গা পেয়েছেন।
তসলিমার (Taslima Nasrin) কথায়, সবচেয়ে মজার বিষয় হল, যে কলকাতা থেকে একদিন তাঁকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল, সেই কলকাতায় তাঁর ফিরে আসার কথাই এখন পরীক্ষার গদ্যাংশ হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকে জীবনের এক ধরনের রসিকতা হিসাবেই দেখছেন লেখিকা।
এর পরেই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তসলিমা (Taslima Nasrin)। তাঁর বক্তব্য, “মানুষকে নির্বাসিত করা যায়, লেখাকে বোধহয় অত সহজে নির্বাসিত করা যায় না।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত মাসে কলকাতায় এসে রবীন্দ্রসদনের একটি অনুষ্ঠানে নিজের প্রিয় শহর থেকে নির্বাসিত হওয়ার যন্ত্রণা ও অভিমানের কথা বলেছিলেন তসলিমা। দীর্ঘ সময় পর কলকাতায় ফিরে সেই অভিজ্ঞতার কথাই তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। এবার সেই বক্তব্যের একটি অংশই স্কুলের পরীক্ষার গদ্যাংশে জায়গা পাওয়ায় ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ বা পরীক্ষার্থীদের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কোন স্কুল এই প্রশ্নপত্র তৈরি করেছে, তা নিয়েও তসলিমার পোস্টে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে।












