Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • Important
  • থালা হাতে রান্নাঘরে গিয়ে হতাশ পড়ুয়ারা, ফাঁকা হাঁড়ি! ৯০ দিন টাকা না আসার অভিযোগ
রাজ্য

থালা হাতে রান্নাঘরে গিয়ে হতাশ পড়ুয়ারা, ফাঁকা হাঁড়ি! ৯০ দিন টাকা না আসার অভিযোগ

mid day meal garia
Email :0

চারটি পিরিয়ড শেষ হলেই নিয়ম করে টিফিনের ঘণ্টা বাজে। সেই ঘণ্টা শুনে প্রতিদিনের মতো থালা হাতে রান্নাঘরের দিকে ছুটে যায় পড়ুয়ারা। কিন্তু গত তিন দিন ধরে রান্নাঘরে গিয়ে তাদের ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। হাঁড়ি ফাঁকা, উনুনে আগুন নেই। কলকাতার গড়িয়ার বোড়াল সমিতি বিদ্যাপীঠে মিড-ডে মিল (Mid Day Meal) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এমনই পরিস্থিতির অভিযোগ উঠেছে।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে প্রায় আড়াইশো পড়ুয়ার দুপুরের খাবারের অন্যতম ভরসা মিড-ডে মিল (Mid Day Meal) । নিয়ম মেনে কোনও দিন ডিম, কোনও দিন মাংস, আবার কখনও সয়াবিনের তরকারি ও আলু সেদ্ধ দেওয়া হত। কিন্তু বুধবার থেকে সেই রান্না পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে টানা তিন দিন ধরে স্কুলে দুপুরের খাবার না পেয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে পড়ুয়াদের।

স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দাবি, প্রায় ৯০ দিন ধরে মিড-ডে মিলের (Mid Day Meal) জন্য কোনও সরকারি বরাদ্দ আসেনি। প্রথম দিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষকরা নিজেদের টাকা খরচ করেছেন। পরে স্থানীয় বাজার থেকে বাকিতে চাল, ডাল, তেল, আনাজ-সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সেই বকেয়া এখন এতটাই বেড়েছে যে আর ধার করে খাবার জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি।

প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, শুধু মুদিখানার দোকানেই প্রায় ২৫ হাজার টাকা বাকি রয়েছে (Mid Day Meal) । এছাড়া ডিম ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ৯ হাজার টাকা এবং আলু বিক্রেতার কাছে প্রায় ১২ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৬ হাজার টাকার দেনা হয়েছে বলে স্কুলের দাবি। পাওনাদাররা নিয়মিত টাকা চাইতে আসছেন। এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত মিড-ডে মিলের রান্না বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক (Mid Day Meal) ।

স্কুল কর্তৃপক্ষের আরও অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা এবং জেলা স্কুল পরিদর্শকের দফতরে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনও সমাধান হয়নি বলে দাবি স্কুলের।

তবে এই সমস্যার কারণ নিয়ে পুরসভার বক্তব্য আলাদা। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, সমস্যাটি মূলত জেলা স্তরে। জেলা থেকে বরাদ্দ না আসায় টাকা ছাড়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে সরকারি পোর্টালের প্রযুক্তিগত জটিলতাও রয়েছে বলে পুরসভার দাবি। সেই জটিলতা দ্রুত মেটানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয়েছে।

শিক্ষা দফতরের তরফেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, মিড-ডে মিলের টাকা আটকে থাকার কারণ নিয়ে স্কুল, পুরসভা এবং প্রশাসনের বক্তব্যে এখনও পুরোপুরি মিল নেই।

কিন্তু এই প্রশাসনিক টানাপোড়েনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে পড়ুয়াদের উপর। টিফিনের ঘণ্টা বাজলেও রান্নাঘরে খাবার না থাকায় খালি থালা নিয়েই ফিরতে হচ্ছে তাদের। কবে ফের স্কুলে নিয়মিত মিড-ডে মিল চালু হবে, এখন সেই প্রশ্নই সামনে। সরকারি বরাদ্দের জটিলতা দ্রুত না কাটলে পরিস্থিতি আরও কত দিন চলবে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Related Tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts