Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • জেলা
  • এক বছরে চল্লিশ কোটি টাকা আয়কর! বীরভূমের ‘পাথর সম্রাট’ টুলুকে ঘিরে নতুন বিস্ফোরক তথ্য
জেলা

এক বছরে চল্লিশ কোটি টাকা আয়কর! বীরভূমের ‘পাথর সম্রাট’ টুলুকে ঘিরে নতুন বিস্ফোরক তথ্য

tulu mondal edit
Email :2

বীরভূমের ‘পাথর সম্রাট’ নামে পরিচিত মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলকে (Tulu Mondal) ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর সংস্থার আয়কর সংক্রান্ত নথি সামনে আসতেই কোটি কোটি টাকার লেনদেন ও ব্যবসা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ঘনিষ্ঠদের দাবি, গত পাঁচ বছরে টুলু মণ্ডলের নামে থাকা সংস্থাগুলি মিলিয়ে দুইশো কোটিরও বেশি টাকা আয়কর জমা পড়েছে। শুধু একটি অর্থবর্ষেই তিনটি সংস্থা মিলিয়ে প্রায় চল্লিশ কোটি টাকা আয়কর দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

সামনে আসা আয়কর নথি অনুযায়ী, টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) সংস্থা ‘মণ্ডল স্টোন প্রোডাক্ট প্রাইভেট লিমিটেড’-এর দুই অর্থবর্ষে বিপুল আয়ের হিসাব রয়েছে। নথিতে দেখা যাচ্ছে, একটি অর্থবর্ষে সংস্থার আয় ছিল তেতাল্লিশ কোটিরও বেশি টাকা এবং সেই বছর আয়কর হিসেবে জমা পড়েছে এগারো কোটির বেশি টাকা। পরের অর্থবর্ষে সংস্থার আয় বেড়ে দাঁড়ায় সাতান্ন কোটিরও বেশি এবং আয়কর দেওয়া হয় প্রায় ষোলো কোটি টাকা। একই সময়ে টুলু মণ্ডলের স্ত্রী ফিরোজা বেগমের আয়ও কয়েক কোটি টাকা বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকেও এক কোটির বেশি আয়কর জমা দেওয়া হয়েছে।

এই বিপুল আয় ও কর প্রদানের তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, টুলু মণ্ডল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা উচিত। তাদের বক্তব্য, তদন্ত হলে আরও অনেক তথ্য সামনে আসতে পারে (Tulu Mondal) ।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, একজন সাধারণ শ্রমিক থেকে কীভাবে জেলার অন্যতম বড় আয়করদাতা হয়ে ওঠা সম্ভব হল, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, যদি এত বড় অঙ্কের আয়কর নিয়ম মেনে জমা পড়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির অনেক আগেই বিষয়টি পরীক্ষা করা উচিত ছিল। তাঁর দাবি, ব্যবসার উৎস ও আর্থিক লেনদেন নজরে রাখার জন্য একাধিক সরকারি সংস্থা রয়েছে। তাই শুধু রাজনৈতিকভাবে একটি দলকে নিশানা করে লাভ নেই।

সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্তের বক্তব্যও এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর দাবি, সরকারি নথিতে আয়কর দেওয়া থাকলেও সাধারণ মানুষের ক্ষতির অভিযোগও সামনে এসেছে। তাই শুধু আয়কর নয়, সম্পদের উৎস এবং অভিযোগের দিকগুলিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

টুলু মণ্ডলের সংস্থার আয়কর সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আসার পর বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিপুল আয়, কোটি কোটি টাকার আয়কর এবং সেই অর্থের উৎস নিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। আগামী দিনে তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts