বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারির অভিযোগে ধৃত সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ সদস্য হামিম মণ্ডলকে (Hamim Mondal) জেরা করে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা বলে দাবি করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা জানান, শুধু মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে তথ্য সংগ্রহই নয়, দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি আন্দোলনের সময় নাশকতার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলছে এবং সমস্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে (Hamim Mondal)।
এসটিএফ সূত্রের দাবি, কয়েকদিন আগে হাওড়ার এক মন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণের সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। সেই সূত্র ধরেই হামিম মণ্ডলের (Hamim Mondal) নাম সামনে আসে। পরে বর্ধমান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে কয়েকজন বিদেশি হ্যান্ডলারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত হামিম। এনক্রিপ্টেড বার্তার মাধ্যমে নির্দেশ আদানপ্রদান করা হত বলেও দাবি পুলিশের।
তদন্তে উঠে এসেছে বলে এসটিএফের দাবি, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একটি জঙ্গি চক্রের সঙ্গে হামিমের (Hamim Mondal) যোগাযোগ ছিল। সেই চক্রের নির্দেশে দেশে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছিল। তদন্তকারীরা আরও কয়েকজনের নাম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইজি, যদিও তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হয়নি।
এসটিএফের দাবি, হামিমকে (Hamim Mondal) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য জোগাড় করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে নিরাপত্তার কোনও ফাঁক বা অনিরাপদ সময়ে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এছাড়াও, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া একটি আন্দোলনের সময় নাশকতার পরিকল্পনার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। এসটিএফ জানিয়েছে, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে ভিড়ে মিশে বিশৃঙ্খলা তৈরির সম্ভাব্য পরিকল্পনা ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা কতদূর এগিয়েছিল, হামিম নিজে সেখানে যাওয়ার কথা ছিল কি না, নাকি অন্য কাউকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। গোটা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা হামিমের (Hamim Mondal) আর্থিক লেনদেন, বিদেশি যোগাযোগ, ব্যবহৃত সিম কার্ড এবং ডিজিটাল তথ্যও পরীক্ষা করছেন। পাকিস্তান থেকে কোনও অর্থ তার অ্যাকাউন্টে এসেছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে। পাশাপাশি, এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসটিএফের দাবি, হামিমের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত অভিযোগই তদন্তকারী সংস্থার দাবি হিসেবে বিবেচিত হবে। চূড়ান্ত সত্য আদালতের বিচার ও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের পরই স্পষ্ট হবে।












