জঙ্গি সন্দেহে হামিম মণ্ডল (Hamim Mondal) গ্রেফতার হওয়ার পর তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর হামিমের (Hamim Mondal) কাছে বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে নতুন নির্দেশ আসে। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই সে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপর নজরদারির কাজ শুরু করেছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের নিয়ে একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টাও চলছিল বলে অভিযোগ।
তদন্তে উঠে এসেছে, হামিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে হামিমকে (Hamim Mondal) জিজ্ঞাসাবাদ করে হাওড়া থেকে আদিত্য সিং ওরফে রাজুকেও গ্রেফতার করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তকারীদের দাবি, এক মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যকে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনার সঙ্গে আদিত্যর যোগ থাকতে পারে। এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামিমের (Hamim Mondal) কাছে সরাসরি টাকা বা সিম কার্ড পৌঁছত না। তদন্তকারীদের দাবি, একটি গোপন পদ্ধতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট জায়গায় টাকা ও সিম রেখে যাওয়া হত। পরে বার্তা পেয়ে হামিম সেখান থেকে সেগুলি সংগ্রহ করত। একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে এই অর্থ পৌঁছত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের মতে, গোটা নেটওয়ার্কটি গোপন ঘাঁটির মতো কাজ করত। বিভিন্ন রাজ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার ইঙ্গিতও মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিমের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ পেত অর্পিতা বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের।
তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি অনলাইন গেমের মাধ্যমে হামিমের সঙ্গে আদিত্যর পরিচয় হয়েছিল। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এরপর আদিত্যকে বিভিন্ন ব্যক্তির উপর নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। হামিম ও অর্পিতাকে জেরা করেই আদিত্যর পরিচয় এবং ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। এই গোটা চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত এখনও চলছে।













