Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • দেশ
  • পাকিস্তান থেকে আসত নির্দেশ! হামিমকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল এসটিএফ
রাজ্য

পাকিস্তান থেকে আসত নির্দেশ! হামিমকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল এসটিএফ

begal stf
Email :2

জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগে ধৃত হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে দাবি করেছে বেঙ্গল এসটিএফ (Bengal STF)। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, শুধু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজর রাখাই নয়, দিল্লির একটি ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরেও নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে তদন্তের স্বার্থে সমস্ত তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন এসটিএফের (Bengal STF) আধিকারিকরা।

এসটিএফের (Bengal STF) আইজি গৌরব শর্মা জানান, কয়েকদিন আগে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আসে যে হাওড়ার এক মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যকে লক্ষ্য করে অপহরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অগ্রগতিতে হামিম মণ্ডলের নাম সামনে আসে। পরে বর্ধমান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারী সংস্থার (Bengal STF) দাবি, হামিমের মোবাইল ও অনলাইন যোগাযোগ খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে, সে কয়েকজন বিদেশি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। রানা, উজায়ের-সহ কয়েকটি নামে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ইনস্টাগ্রাম ও এনক্রিপটেড বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ হত বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, এই যোগাযোগের সূত্র পাকিস্তানভিত্তিক একটি জঙ্গি চক্রের দিকে ইঙ্গিত করছে।

এসটিএফের (Bengal STF) অভিযোগ, হামিমকে ব্যবহার করে বাংলায় একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছিল। নতুন সদস্য সংগ্রহ, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের টার্গেট করা এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে এবং আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের দাবি, হামিমকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কোথায় যাচ্ছেন, কখন নিরাপত্তা তুলনামূলক কম থাকে, সেই ধরনের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল বলে অভিযোগ। এই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কোনও ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এসটিএফ (Bengal STF) আরও দাবি করেছে, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করেও বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, হামিমকে পুলিশের পোশাক সংগ্রহ করে নাশকতার পরিবেশ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে এবং আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।

এছাড়াও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, বিদেশ থেকে হামিমের কাছে কোনও অর্থ এসেছে কি না। বিভিন্ন দেশের সিম কার্ড ব্যবহারের অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে। হামিমের ঘনিষ্ঠ অর্পিতা সরকারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁকে ব্যবহার করে তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করার পরিকল্পনা ছিল। এই অভিযোগগুলিও এখনও তদন্তাধীন।

ভারতের বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা বহুবার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি সংগঠনগুলি সোশ্যাল মাধ্যম, এনক্রিপটেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম এবং বিদেশি হ্যান্ডলারদের মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে। অনলাইন প্রচার, গোপন বার্তা আদানপ্রদান এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভিযোগ একাধিক মামলায় উঠে এসেছে। হামিম মণ্ডল মামলাতেও সেই সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে এসটিএফ। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে সব অভিযোগই তদন্তকারী সংস্থার দাবি হিসেবে বিবেচিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts