রাজ্যের সরকারি স্কুলে আজ থেকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। ইসকনের অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিল (Mid Day Meal) সরবরাহ শুরু হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে আজ মেগা কিচেনের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনের আগে তিনি ইসকনে আয়োজিত যজ্ঞে অংশ নেন। পরে মেগা কিচেনে গিয়ে রান্নার ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন এবং প্রতীকীভাবে মিড ডে মিল রান্নাতেও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এবং অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। পাঁচটি স্কুলের চল্লিশ জন পড়ুয়াও অনুষ্ঠানে অংশ নেয় (Mid Day Meal)। উদ্বোধনের পর ইলেকট্রিক গাড়িতে মিড ডে মিল পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবারও সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আজ থেকেই ইসকনের মেগা কিচেনে রান্না করা খাবার ইলেকট্রিক গাড়িতে করে বিভিন্ন সরকারি স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে (Mid Day Meal)। খাবারের গুণমান ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রতিটি পাত্র সম্পূর্ণ সিল করে পাঠানো হবে। স্কুলে পৌঁছানোর পর কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সেই সিল খোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার কাছে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মিড ডে মিলের বরাদ্দ বাড়িয়ে দশ টাকা করা হয়েছে এবং বহু ব্যক্তি ও সংস্থার সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ছাত্রছাত্রীদের স্কুলমুখী করা এবং তাদের সার্বিক বিকাশে মিড ডে (Mid Day Meal) মিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁর বক্তব্য, এই ভাবনার সূচনা করেছিলেন প্রয়াত অটল বিহারী বাজপেয়ী। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় শিশুদের কাছে আরও উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ইসকনকে এই দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছে, সেই প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে সমালোচনা থাকতেই পারে। তবে রাজ্য সরকার ইসকনের খাবারের পাশাপাশি সপ্তাহে দু’দিন পড়ুয়াদের ডিমও দেবে। এতে শিশুদের পুষ্টির দিকটি আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁর দাবি।
মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কোনও রাঁধুনির কাজ বন্ধ হবে না। ইসকনের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাতেও তাঁদের যুক্ত করা হবে (Mid Day Meal)। পাশাপাশি আগস্ট মাস থেকে তাঁদের মাসিক সম্মানী দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষে পড়ুয়াদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে মিড ডে মিল খান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাঁরা এই প্রকল্পের সমালোচনা করছেন, তাঁরা একদিন স্কুলে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে বসে এই খাবারের মান নিজেরাই দেখে আসুন।













