বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে হামিদ মণ্ডল নামে (Jaish Terrorist) এক কাশ্মীরি জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ এবং বর্ধমান পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কাশ্মীর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি এবং টাকার বিনিময়ে খুনের অভিযোগ রয়েছে। এবার সেই সংগঠনের এক সদস্যের বাংলায় সক্রিয় থাকার অভিযোগ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, হামিদের (Jaish Terrorist) মূল দায়িত্ব ছিল পূর্ব ভারতে সংগঠনের নেটওয়ার্ক বিস্তার করা। নতুন সদস্য সংগ্রহ, মগজধোলাই এবং সংগঠনের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজ করত সে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে সে বর্ধমানে ভাড়া থাকছিল। ঠিক এই সময়েই রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে। ফলে এই সময়ে তার গতিবিধি নিয়ে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
হামিদকে (Jaish Terrorist) যে আবাসন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটি বর্ধমানের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ধারে অবস্থিত। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই জায়গাকে ঘাঁটি বানিয়ে সে কোনও বিশেষ পরিকল্পনা করছিল কি না। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু তথ্য তার কাছে থাকার দাবিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনও তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে, গত এক সপ্তাহে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে একই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান হয়েছে। অসম থেকেও এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্র অনলাইনে উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, সদস্য সংগ্রহ, রেকি, স্লিপার সেল গঠন, অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে (Jaish Terrorist)।
তদন্তকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্ক পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করত। এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দেশ আদান-প্রদান করা হতো বলেও অভিযোগ। বিভিন্ন রাজ্যে এই সংগঠনের বিস্তার কতদূর হয়েছে এবং বাংলায় আর কারা এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, তা জানতে জোরকদমে তদন্ত চলছে।
হামিদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তার যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।











