বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। তাঁর দাবি, তিনি ইডির থেকেও বেশি ভয় পেতেন অভিষেককে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাও অভিষেক শোনেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
বুধবার বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেন মদন মিত্র (Madan Mitra)। সেখানেই কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফার ঘোষণা করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, তিনি তৃণমূল ছাড়েননি, তবে দলের অন্য শিবিরে যোগ দিয়েছেন।
মদনের (Madan Mitra) অভিযোগ, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য একজনের নেতৃত্বই দায়ী। তাঁর কথায়, দল কোনও একজন ব্যক্তির নয়, কর্মীদের। তিনি দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সব সিদ্ধান্ত নিজের মতো নিতে চান এবং অন্য কাউকে কাজ করার সুযোগ দিতে চান না। তাঁর মতে, এই ধরনের নেতৃত্বে দলের ক্ষতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই পথে চললে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে মদন মিত্র (Madan Mitra) বলেন, তিনি এখনও মমতাকে সম্মান করেন। দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই রাজনীতি করেছেন। তবে আগের মতো কাজ করার পরিবেশ আর ছিল না বলেই তিনি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়েও মন্তব্য করেন মদন মিত্র। আদালতের নির্দেশে বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের সামনে নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে সভার অনুমতি দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তে অন্তত সভা করার সুযোগ মিলেছে।
উল্লেখ্য, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন মদন মিত্র। সম্প্রতি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও তলব করা হয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। বুধবার বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে সেই জল্পনার অবসান ঘটে।













