পুণের বহুল আলোচিত কেতন অগরওয়াল হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবিতে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন জানালেন নিহত যুবকের মা রাখি অগরওয়াল (Pune Murder Case)। সোমবার রাতে তিনি ইমেলের মাধ্যমে একটি আবেগঘন চিঠি পাঠান। সেখানে তাঁর একটাই আবেদন, এই মামলা যেন অন্য অনেক মামলার মতো দীর্ঘদিন ফাইলবন্দি হয়ে না থাকে এবং দোষীরা যেন কঠোর শাস্তি পায়।
চিঠিতে রাখি অগরওয়াল লিখেছেন, অন্য সব মায়ের মতো তিনিও স্বপ্ন দেখতেন তাঁর ছেলে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়বে, সংসার করবে এবং পরিবারের সঙ্গে সুখে জীবন কাটাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে। নিজের সন্তানের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়েছে তাঁকে। একজন মায়ের জীবনে এর চেয়ে বড় যন্ত্রণা আর কিছু হতে পারে না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি (Pune Murder Case)।
তিনি আরও লিখেছেন, কেতনের মৃত্যুর (Pune Murder Case) পর থেকে তাঁদের বাড়ির প্রতিটি কোণ ছেলের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তাঁর ঘর, পোশাক এবং ছবি দেখলেই বুক ভেঙে যায়। এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না যে কেতন আর কোনওদিন ফিরে আসবে না।
চিঠিতে কেতনের দাদুর মৃত্যুর কথাও তুলে ধরেছেন তিনি (Pune Murder Case)। তাঁর দাবি, নাতির মৃত্যুর ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং প্রায় কুড়ি দিনের মধ্যেই মারা যান। নাতিকে তিনি অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রাখি অগরওয়াল লিখেছেন, তিনি কোনও বিশেষ সুবিধা বা সহানুভূতি চান না। শুধু একজন মা হিসেবে ন্যায়বিচার চান। তাঁর আবেদন, তদন্ত দ্রুত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক (Pune Murder Case)।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেতন অগরওয়ালের সঙ্গে সিয়া গোয়েলের বাগদান হয়েছিল। আগামী নভেম্বরে তাঁদের বিয়ের কথা ছিল। অভিযোগ, পরে সিয়া বিয়ে করতে না চাইলেও পারিবারিক চাপে সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনতে পারেননি। তদন্তকারীদের দাবি, এরপরই পরিকল্পনা করে কেতনকে হত্যা করা হয়। গত আঠারো জুন পুণের লোহাগড় দুর্গ থেকে পড়ে কেতনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সিয়া গোয়েল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ চেতনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।













