প্রায় ছত্রিশ বছর আগে কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স সরলা ভট্টকে অপহরণ, ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় বড় আইনি পদক্ষেপ করা হল। জম্মু ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিকের (Yasin Malik) বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। সোমবার আদালতে জমা পড়া সাতশো সাতত্রিশ পাতার চার্জশিটে ইয়াসিন মালিক ছাড়াও আরও চারজনের নাম রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উনিশশো নব্বই সালের আঠারো এপ্রিল শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের নার্স সরলা ভট্টকে হাসপাতালের কাছ থেকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ, এরপর তাঁকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের পর গুলি করে হত্যা করা হয়। বহু বছর পর এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে ইয়াসিন মালিকের (Yasin Malik) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল হওয়ায় মামলাটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তৎকালীন সময়ে কাশ্মীরে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটছিল। আইনজীবী টিক্কা লাল তাপলু, বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জু, কবি সর্বানন্দ কউল প্রেমী এবং সম্প্রচারকর্মী লাসা কউল-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি খুন হন। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই ধারাবাহিক হামলার ফলে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয় এবং বহু পরিবার উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, সেই সময় শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে কর্মরত বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স আগেই এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সরলা ভট্ট নিজের কর্মস্থল ছাড়েননি। অভিযোগ, সেই কারণেই তিনি হামলার শিকার হন।
বর্তমানে ইয়াসিন মালিক (Yasin Malik) অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সম্প্রতি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে দাখিল করা এক হলফনামায় তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ডের আবেদনও জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইয়াসিন মালিক (Yasin Malik) নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি বহু বছর আগেই অস্ত্রের পথ ছেড়ে অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি এখন শান্তিপূর্ণ উপায়ে কাশ্মীরের স্বার্থে আন্দোলন করছেন। তবে তাঁর এই দাবির মধ্যেই বহু বছর পুরনো সরলা ভট্ট হত্যা মামলায় চার্জশিট জমা পড়ায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে এই বহুচর্চিত মামলা।
এই মামলায় আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং তদন্তের অগ্রগতি এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আইন মহল।













