মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave) কোনও দয়া বা বিশেষ সুবিধা নয়, এটি প্রত্যেক কর্মজীবী মহিলার সাংবিধানিক অধিকার। এমনই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় কোনও কর্মীর বেতন বা ভাতা বন্ধ রাখা যাবে না। প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করে এই অধিকার কেড়ে নেওয়াও আইনসঙ্গত নয়।
এই মামলাটি করেছিলেন একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন মহিলা চিকিৎসক (Maternity Leave)। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর হলেও সেই সময়ের বেতন ও ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আদালতে ওঠার পর বিচারপতি রাজনেশ ওসওয়ালের বেঞ্চে শুনানি হয়।
মামলাকারীদের দাবি, দুই হাজার চব্বিশ সালে জারি হওয়া সরকারি নির্দেশে মাতৃত্বকালীন ছুটির (Maternity Leave) সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে আর একটি নির্দেশে জানানো হয়, ছুটির সময় তাঁরা কর্মরত হিসেবে গণ্য হবেন না। সেই কারণ দেখিয়ে তাঁদের বেতন ও ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি ছিল, আবেদনকারী চিকিৎসকেরা স্থায়ী সরকারি কর্মী নন। তাঁরা চুক্তিভিত্তিক কর্মী হওয়ায় বেতন-সহ মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা তাঁদের প্রযোজ্য নয়।
তবে আদালত প্রশাসনের এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত জানায়, সরকারি নির্দেশে যখন মাতৃত্বকালীন ছুটির (Maternity Leave) সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তখন সেই ছুটির পুরো সময়ের বেতন ও ভাতাও দিতে হবে। বিচারপতি বলেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি নারীর মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। তাই প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে সেই অধিকার খর্ব করা যায় না।
এরপরই আদালত বেতন বন্ধ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশ বাতিল করে দেয়। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আবেদনকারী মহিলা চিকিৎসকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির পুরো সময়ের বেতন ও সমস্ত প্রাপ্য ভাতা দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে। এই রায়কে কর্মজীবী মহিলাদের অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।











