তৃণমূলের একাংশ সাংসদের এনডিএ-তে যোগদানের আবেদন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে সরাসরি ‘অপারেশন লোটাস’ বলে উল্লেখ করলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় (Sougata Roy)। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের সাংসদদের প্রভাবিত করতে ভয় এবং লোভ— দুই কৌশলই ব্যবহার করে বিজেপি।
সোমবার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ-র শরিক হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন জানান (Sougata Roy)। এর পরই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে যে ৮ জন এখনও দলের সঙ্গেই রয়েছেন, তাঁদের অন্যতম সৌগত রায়।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সৌগত (Sougata Roy) দাবি করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও শক্তিশালী করতেই বিরোধী দলের সাংসদদের ভাঙানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ভয় দেখানো এবং নানা ধরনের প্রলোভন দেওয়া— এই দুই পথেই চাপ সৃষ্টি করা হয়।
তাঁর কাছেও এমন কোনও প্রস্তাব এসেছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে সৌগত রায় (Sougata Roy) বলেন, তাঁকেও ভয় এবং লোভ দুটোই দেখানো হয়েছিল। তবে কে বা কারা সেই প্রস্তাব দিয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগতভাবে কে কী বলেছেন, তা প্রকাশ্যে আলোচনা করতে চান না। তবে তিনি স্পষ্ট জানান, সেই প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
এদিকে এনডিএ-তে যোগদানের আবেদন করা ২০ জন সাংসদকে নিয়েও কটাক্ষ করেন সৌগত। তাঁর দাবি, তাঁদের অনেকেরই সংসদীয় কাজকর্ম উল্লেখযোগ্য নয় এবং নিজ নিজ এলাকায়ও বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাব নেই।
বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে অন্যতম কাকলি ঘোষ দস্তিদারের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। সৌগতের দাবি, কাকলি দীর্ঘদিন ধরেই দলের সঙ্গে মতভেদে ছিলেন। তাঁর কথায়, নিজের পছন্দমতো কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
২০ জন সাংসদের এই পদক্ষেপ এবং তার জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সৌগত রায়ের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এখন নজর, আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।













