দিল্লিতে ইন্ডি জোটের বৈঠকে সোমবার এক অন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) দেখল রাজনৈতিক মহল। সাধারণত বিভিন্ন বৈঠক এবং সাংবাদিক সম্মেলনে সরব থাকতেই দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু এদিন প্রায় পুরো সময়টাই নীরব ছিলেন তৃণমূল নেত্রী (Mamata Banerjee)। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি মাত্র দুটি শব্দ উচ্চারণ করেন। সেই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা।
বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের পর তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা বেড়েছে। দলের একাংশ সাংসদ ও বিধায়কের অবস্থান ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লিতে ইন্ডি জোটের বৈঠকে যোগ দিতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জোটের নেতারা। সেখানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের পাশে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, ওমর আবদুল্লা এবং তেজস্বী যাদবও।
প্রায় সাড়ে সাত মিনিটের সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) খুব কম কথা বলতে দেখা যায়। খাড়্গে যখন বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলির কথা বলছিলেন, তখন একটি বিষয়ে তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে ‘নৃশংসতা’ শব্দটি ব্যবহার করেন মমতা। পরে আরেকবার ‘ভার্চুয়ালি’ শব্দটি বলে জানান, কয়েকজন নেতা অনলাইনে বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।
এর বাইরে পুরো সাংবাদিক বৈঠকে আর কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। এমনকি সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় তাঁকে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। অনেকের মতে, বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের প্রভাব তাঁর আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে। আবার অন্যদের মতে, এটি শুধুই একটি কৌশলগত নীরবতা।
তবে বৈঠকের ভিতরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের বক্তব্য রেখেছেন বলেই জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, তিনি অভিযোগ করেছেন যে বাংলায় জোর করে তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এছাড়াও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রসঙ্গও বৈঠকে উত্থাপন করেছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও বৈঠক শেষে সেই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।
সব মিলিয়ে দিল্লির এই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীরব উপস্থিতি এখন রাজনৈতিক মহলে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাঁর এই আচরণের পিছনে শুধুই কৌশল, নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে বড় রাজনৈতিক বার্তা— সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।










