দিল্লির অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পাল খুনের (Bengali Professor Murder) ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তের পর এই ঘটনায় বর্ধমান থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস নামে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক চমকে দেওয়া তথ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের (Bengali Professor Murder) ঘটনার তদন্তে আবাসনের প্রায় ২০০ জন বাসিন্দার তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। অন্তত ১৩ জন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চারটি রাজ্যে অভিযান চালিয়ে শত শত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। শেষ পর্যন্ত তদন্তের সূত্র ধরে বর্ধমানে পৌঁছে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা তাঁদের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া ছেলেকেও সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের সঙ্গে পরিচিতির সুযোগ নিয়েই তাঁর (Bengali Professor Murder) ফ্ল্যাটে ঢোকেন তাঁরা। সেই সময় দেবস্মিতা তাঁদের আপ্যায়নে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ, সেই সুযোগে পিছন দিক থেকে ভারী বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয় বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, খুনের পরও ফ্ল্যাটে থাকা টাকা, ল্যাপটপ কিংবা অন্য মূল্যবান জিনিসে হাত দেওয়া হয়নি। দেবস্মিতার ব্যাগে থাকা নগদ টাকা, রান্নাঘরে রাখা পরিচারিকার বেতন এবং অন্যান্য সামগ্রী অক্ষত অবস্থাতেই পাওয়া যায়। ফলে শুরু থেকেই পুলিশের সন্দেহ ছিল, এই খুনের পিছনে লুটপাট নয়, অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে (Bengali Professor Murder)।
ঘটনার দিন সকালে পরিচারিকা ফ্ল্যাটে এসে দরজায় তালা দেখতে পান। পরে চালক এবং পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগের চেষ্টা করেও দেবস্মিতার কোনও সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। ফ্ল্যাটে ঢুকে উদ্ধার করা হয় অধ্যাপিকার রক্তাক্ত দেহ।
তদন্তে উঠে এসেছে, বর্ধমানের বাদামতলা এলাকায় উত্তরাধিকার সূত্রে একটি বাড়ির মালিক ছিলেন দেবস্মিতা (Bengali Professor Murder)। সেই বাড়িতেই দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটে হিসেবে থাকতেন অভিযুক্ত দম্পতি। অভিযোগ, বাড়িটি বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিলেন দেবস্মিতা এবং সেই কারণে ভাড়াটিয়াদের বাড়ি খালি করতে বলেছিলেন। পুলিশের অনুমান, সেই সম্পত্তির দখল বজায় রাখতেই খুনের পরিকল্পনা করে অভিযুক্তরা।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, মুখ ঢেকে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছিলেন অভিযুক্তরা। খুনের পর পোশাক বদলে বেরিয়ে যান তাঁরা। পরে ট্রেনে করে বর্ধমানে ফিরে আসেন। দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে বর্ধমান থেকেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তদের ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তকারীদের দাবি, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।













