প্রায় তিন মাস আগে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা হলেও ফের ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে বড় দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধাক্কা লেগেছে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র মজুত এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে।
শুক্রবার একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেন, আমেরিকার অভিযানে ইরানের সামরিক পরিকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। তাঁর কথায়, ইরানের হাতে এখন খুব অল্প সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। আগে যে পরিমাণ অস্ত্র মজুত ছিল, তার তুলনায় এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের অধিকাংশ অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং ড্রোন তৈরির কারখানাও মার্কিন বাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও কিছু ড্রোন এখনও ইরানের হাতে রয়েছে বলে তিনি (Donald Trump) জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের (Donald Trump) এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ইরান কি ধীরে ধীরে যুদ্ধের ক্ষেত্রে দুর্বল অবস্থানে চলে যাচ্ছে? সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং পরপর হামলার ফলে ইরানের উপর চাপ বাড়ছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ ইস্যুতে নিজ দেশেও চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (Donald Trump)। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্পের নিজের দলের কয়েকজন নেতাও তাঁর অবস্থানের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ২১৫টি এবং বিপক্ষে পড়েছে ২০৮টি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় সতর্কবার্তা। যুদ্ধনীতি নিয়ে দেশের ভিতরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ফলে একদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপ— দুই দিক থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (Donald Trump)।










