কলকাতা পুরসভার মেয়র এবং সব মেয়র পারিষদকে এবার কালীঘাটের বাড়িতে তলব করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার বিকেলে হরিশ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে এই বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, বৈঠকে পুরসভার একাধিক কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী (Mamata Banerjee)।
বিশেষ করে তিলজলার একটি বাড়িতে বুলডোজার চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি (Mamata Banerjee) ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানা গিয়েছে। ওই নির্মাণ কীভাবে মেয়র বা মেয়র পারিষদদের সিদ্ধান্ত ছাড়া ভাঙা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ধরনের পদক্ষেপ কেন নেওয়া হল, তা নিয়েও তিনি ব্যাখ্যা চান বলে সূত্রের খবর।
বৈঠকে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, শহরের কোথাও আগুন লাগা বা বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার কমিশনারের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। সেই ক্ষমতা অনুযায়ী কমিশনার সরাসরি ভাঙার নির্দেশ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মেয়র বা মেয়র পারিষদের অনুমতি প্রয়োজন হয় না বলেও তিনি জানান (Mamata Banerjee)।
তবে এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তিনি পুরসভার আইন বিভাগের কাজ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে সূত্রের দাবি। এমনকি আইন বিভাগকে আরও শক্তিশালী করতে দলের এক সাংসদের আইনজীবী পুত্রকে পুরসভার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগের নির্দেশও দেন তিনি।
একইসঙ্গে কলকাতা পুরসভার কাজের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর পুর পরিষেবার কাজে যেন কোনও ঘাটতি না থাকে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার বহু ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই দলের সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক কাজ নিয়ে আরও সতর্ক হয়েছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতেই তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈঠকে ফিরহাদ হাকিম ও অতীন ঘোষদের উদ্দেশে মমতা বলেন, মানুষ তাঁদের নির্বাচিত করেছেন। তাই মানুষের কাজ ঠিকভাবে করতে হবে। পরিষেবায় কোনও গাফিলতি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।











