ভারতে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে বড় কূটনৈতিক অস্বস্তির মুখে পড়তে হল নয়াদিল্লিকে। বৈঠক চলাকালীন ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা বাধে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীকে।
সূত্রের খবর, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিদেশমন্ত্রী খলিফা শহিন আল মারারের মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় (BRICS)। বিশেষ করে আমিরশাহীর জ্বালানি পরিকাঠামোয় ইরানের হামলার প্রসঙ্গ উঠতেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বেড়েছে (BRICS)। এরপর ইরান পালটা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সেই হামলা থেকে বাদ যায়নি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীও। পরে ইরানের একটি দ্বীপ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে আমিরশাহীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার জেরেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা (BRICS)।
এই আবহেই ব্রিকস সম্মেলনে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে সমুদ্রপথ খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি। হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপদ ও বাধাহীন পরিবহণ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
জয়শংকর আরও বলেন, কোনও দেশের একতরফা সিদ্ধান্ত বা নিষেধাজ্ঞা উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। যদিও তিনি কোনও দেশের নাম নেননি, তবুও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি। সংঘাতের সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই সম্ভব বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি (BRICS)।
উল্লেখ্য, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত হয়েছিল ব্রিকস জোট। পরে এই সংগঠনে যোগ দেয় মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। চলতি বছরে এই জোটে যুক্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়াও।













