বাংলায় সরকার বদলের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শনিবার শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় পরিবর্তন দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রোফাইলে। ফেসবুকের বায়ো বদল করেন তৃণমূল নেত্রী। অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee) সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে কার্যত স্বীকার করে নিলেন যে রাজ্যে এখন বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) তাঁর পোস্টে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, ভোট গণনা প্রক্রিয়া, ইভিএম পরিচালনা এবং কন্ট্রোল ইউনিটের অমিল নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, গণনা কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিভিপ্যাট স্লিপের স্বচ্ছ গণনার দাবি ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে ভোট-পরবর্তী অশান্তির জন্য বিজেপিকেও দায়ী করেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)(Abhishek Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের পর তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা হয়েছে এবং বহু কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, নিচুতলার বহু কর্মী এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনেকেই ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন।
রাজ্যে তৃণমূলের খারাপ ফলের পর দলের অন্দরে চাপা ক্ষোভও সামনে আসতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। তিনি কর্মীদের আইনি সাহায্য নেওয়ার পরামর্শও দেন এবং জানান, কঠিন সময়ে তিনি তাঁদের পাশে থাকবেন।
তবে এত অভিযোগ এবং রাজনৈতিক আক্রমণের মাঝেও অভিষেকের পোস্টের একটি লাইন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তিনি লেখেন, “আমরা দিল্লি ও বাংলায় বিরোধী দল।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই বাংলায় ক্ষমতা হারানোর বাস্তবতা মেনে নিল তৃণমূল নেতৃত্ব।
অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী শনিবার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাঁর শপথের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।













