ভোটপর্ব শেষ হতেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাজ্যে স্ট্রং রুম ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার দুই গণনাকেন্দ্রে তৃণমূলের ধরনা এবং বিজেপির পাল্টা জমায়েতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। রাতেই স্ট্রং রুমে কারচুপির অভিযোগ তুলে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে ঘিরেই শুক্রবার তাঁকে তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) দাবি করেন, এই সবই স্ট্রং রুম নিয়ে রাজনৈতিক নাটক। তাঁর বক্তব্য, যখন তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল তখন বিজেপি অভিযোগ করত, এখন পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় তৃণমূল একই কাজ করছে। তিনি বলেন, ভোটের দিন, ভোটের পর এবং এখন স্ট্রং রুম নিয়ে অভিযোগ— এগুলো সবই হেরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে করা হচ্ছে। তাঁর মতে, যারা দুর্বল হয় তারাই বেশি অভিযোগ করে।
তিনি (Dilip Ghosh) আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকটি কেন্দ্রে এই অভিযোগ উঠছে। তাঁর দাবি, যেসব জায়গায় আগে তৃণমূল প্রভাব খাটিয়ে জিতত, এখন সেখানে সেই সুযোগ না থাকায় এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ফলাফল নিয়ে আশঙ্কা থেকেই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৩০-র বেশি আসন জয়ের দাবি নিয়েও কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের দাবি সামাজিক মাধ্যমে বলতে হচ্ছে কারণ দলের কর্মীরাই তা বিশ্বাস করছেন না। কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতেই এই ধরনের কথা বলা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি (Dilip Ghosh)।
এক্সিট পোল নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, এক্সিট পোল আসল ফল নয়, শুধু একটা ইঙ্গিত মাত্র। তাঁর মতে, বাইরের নেতারা এখানে ভোটে লড়েননি, তাই তাঁদের মন্তব্যের গুরুত্ব কম। স্থানীয় মানুষই ভোট দেয় এবং ফলাফল ঠিক করে— এটাই স্বাভাবিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্ট্রং রুম থেকে এক্সিট পোল— সব ইস্যু মিলিয়ে ভোট পরবর্তী রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এখন সবার নজর ফল ঘোষণার দিনের দিকে, যখন এই সমস্ত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে।









