আমেরিকার ভার্জিনিয়া রাজ্যে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। প্রাক্তন ভাইস গভর্নর (Virginia Former Lieutenant) জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স নিজের স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সকে গুলি করে হত্যা করার পর নিজেও আত্মঘাতী হন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে তাঁদের বাড়িতে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটার সময় তাঁদের দুই কিশোর সন্তান বাড়িতেই ছিল। তাদের মধ্যে একজন জরুরি নম্বরে ফোন করে সাহায্য চান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দম্পতিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল এবং বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, এই বিবাদ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছিল এবং ঘটনার আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সম্প্রতি আদালতের একটি নোটিশও জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স পেয়েছিলেন (Virginia Former Lieutenant)।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে সেই বিবাহবিচ্ছেদের জটিল পরিস্থিতির যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাড়ির ভিতরে লাগানো ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় আঘাত পেয়েছে তাঁদের সন্তানরা। বর্তমানে তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে রয়েছে এবং মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক, বিশেষ করে যখন সন্তানরা বাড়ির মধ্যেই ছিল।
এর আগে জানুয়ারি মাসে একবার জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর স্ত্রী তাঁকে আঘাত করেছিলেন। তবে সেই অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একসময় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ ছিলেন জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স (Virginia Former Lieutenant)। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভার্জিনিয়ার ভাইস গভর্নর ছিলেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, যখন তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে (Virginia Former Lieutenant)। যদিও তিনি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
পরে তিনি গভর্নর পদে নির্বাচনেও লড়েছিলেন, কিন্তু তেমন সাফল্য পাননি। এরপর তিনি আইন পেশায় ফিরে যান। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক সমস্যাতেও ভুগছিলেন জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স। কিছু ঋণ সংক্রান্ত মামলাও চলছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার পর আমেরিকায় পারিবারিক সহিংসতা এবং মানসিক চাপে ভেঙে পড়ার বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।











