প্রায় দু’মাস ধরে চলা সংঘাতের মাঝে শান্তি আলোচনায় বড় ধাক্কা। নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নেবে না ইরান। রবিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এই খবর সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে (Iran War)।
এই ঘোষণা আসে ঠিক সেই সময়, যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাদের প্রতিনিধি দল সোমবার পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছবে (Iran War)। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আলোচনায় অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ইরানের এই সিদ্ধান্তে সেই আশা প্রায় ভেঙে গেল।
ইরানের তরফে জানানো হয়েছে (Iran War), আমেরিকার অতিরিক্ত দাবি, অযৌক্তিক প্রত্যাশা এবং বারবার অবস্থান বদলের কারণেই তারা আলোচনায় যাচ্ছে না। পাশাপাশি আমেরিকার নৌ অবরোধকেও যুদ্ধবিরতির শর্তভঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের প্রথম সহ-রাষ্ট্রপতি আমেরিকার অবস্থানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর মতে, একদিকে চাপ তৈরি করে আলোচনা চালানো, আবার অন্যদিকে কঠোর অবস্থান নেওয়া—এই দ্বিচারিতা শান্তির পথে বাধা।
এদিকে আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রস্তুত। পাকিস্তানও নিরাপত্তা জোরদার করেছিল। কিন্তু ইরানের সিদ্ধান্তে সেই উদ্যোগ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
কিছুদিন আগেও ইরানের তরফে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। বিশেষ করে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না মানলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।
দুই দেশের মধ্যে মূল মতভেদ এখনও কাটেনি। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। এই অবিশ্বাসই শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে উত্তেজনা বাড়ছে। বহু জাহাজ আটকে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং শান্তির পথ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।











