মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে (Lebanan)। আগামী সপ্তাহেই ওয়াশিংটনে এই বৈঠক হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে হিজবুল্লা, তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনওভাবেই ইজরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবে না।
খবর অনুযায়ী, এই আলোচনা আমেরিকার বিদেশ দপ্তরে হতে পারে। ইজরায়েলের তরফে তাদের মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং আমেরিকার তরফে লেবাননে (Lebanan) নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আলোচনায় অংশ নেবেন। তবে লেবাননের পক্ষ থেকে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই সম্ভাব্য আলোচনার পটভূমিতে রয়েছে ক্রমবর্ধমান হিংসা। লেবাননের (Lebanan) স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইজরায়েলি হামলায় একদিনেই তিনশোর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইজরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লা নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে বেইরুটে হামলায় হত্যা করেছে।
এই পরিস্থিতিতে হিজবুল্লার এক নেতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ইজরায়েলের সঙ্গে কোনও সরাসরি আলোচনা তারা মানবে না। তাদের দাবি, প্রথমে ইজরায়েলকে লেবানন (Lebanan) থেকে সেনা সরাতে হবে, হামলা বন্ধ করতে হবে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের ঘরে ফেরাতে হবে।
অন্যদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননের অনুরোধেই এই আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে হিজবুল্লাকে নিরস্ত্র করা এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা।
এই পরিস্থিতিতে ইরানও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, লেবাননের (Lebanan) পাশে রয়েছে তাদের দেশ এবং প্রয়োজনে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তাঁর কথায়, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে কোনও আলোচনারই অর্থ থাকবে না।
এদিকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়। যুদ্ধবিরতির কিছুক্ষণের মধ্যেই লেবাননে বড় আকারে হামলা চালায় ইজরায়েল। ফলে এই সংঘর্ষ যে কোনও সময় আবার বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে একদিকে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ, অন্যদিকে অব্যাহত সংঘর্ষ— এই দ্বৈত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।










