ভোটের আগে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হল একটি ভিডিও ঘিরে। ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’র নেতা হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) একটি ভিডিও প্রকাশ করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে এই ভিডিও সামনে আনেন তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিম এবং অরূপ বিশ্বাস। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি (Humayun Kabir)।
ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে, হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) এবং এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথন চলছে। সেখানে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে হুমায়ুনের মুখে এমন কিছু মন্তব্য শোনা যাচ্ছে, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংখ্যালঘুদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগও উঠেছে।
এই ভিডিও সামনে এনে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ফিরহাদ হাকিম বলেন, টাকার বিনিময়ে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অন্যায়। তিনি এই ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ বলেও উল্লেখ করেন।
ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়েছে, বিজেপির কিছু শীর্ষ নেতার সঙ্গে হুমায়ুনের যোগাযোগ রয়েছে। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর নামও শোনা যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রীর নামও কথোপকথনে উঠে এসেছে বলে দাবি তৃণমূলের (Humayun Kabir)।
কুণাল ঘোষ বলেন, এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। কারা এই ধরনের বড় অঙ্কের চুক্তির পিছনে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবিও তোলেন তিনি। ফিরহাদ হাকিম এই ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন এবং তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের কোনও আঁতাতের প্রশ্নই ওঠে না।
হুমায়ুন কবীরও সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই ভিডিও সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে তাঁর কোনও অর্থনৈতিক চুক্তি হয়েছে, তাহলে তিনি তা মেনে নেবেন। না হলে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই ভিডিও ঘিরে রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।













