কালিয়াচকের ঘটনার দিন রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি, এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শীর্ষ আদালতে (Supreme Court) শুনানি হয়। আদালতের নির্দেশ মেনে সোমবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির হন মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা। শুনানিতে তাঁকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে আদালত এবং ওই দিনের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দেয়।
উল্লেখ্য, ভোট ঘোষণার দিন রাতেই নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে মুখ্যসচিব করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে কালিয়াচকের ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিন আদালতে তদন্তকারী সংস্থা একটি রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। আদালত জানায়, তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এলে আরও মামলা দায়ের করা যেতে পারে। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশকে সমস্ত নথি দ্রুত তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানির সময় মুখ্যসচিবকে জিজ্ঞেস করা হয়, কেন প্রধান বিচারপতির ফোন ধরেননি। উত্তরে তিনি জানান, তিনি সেদিন বিমানে ছিলেন এবং কোনও ফোন পাননি। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি আদালত।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ফোনে যোগাযোগ না হওয়া এবং নম্বর শেয়ার না করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তিনি মুখ্যসচিবকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন।
আদালত আরও জানায়, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার একটা সীমা থাকা উচিত। এই ধরনের আচরণে নির্বাচন কমিশনও সমস্যায় পড়েছে বলে মন্তব্য করা হয়। আদালতের মতে, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের অভাবেই রাজ্যে অশান্তি বেড়েছে।
শেষে আদালত ভার্চুয়াল শুনানিতে উপস্থিত আধিকারিকদের উদ্দেশে জানায়, ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হতে হবে। আগামী তেরো এপ্রিলের মধ্যে তদন্তের পরবর্তী রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।











