মালদহের কালিয়াচকে সাতজন বিচারককে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সেই ঘটনার প্রতিফলন দেখা গেল শীর্ষ আদালতে (Supreme Court)। আদালতে এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অভিযোগ, প্রায় আট ঘণ্টা ধরে বিচারকদের একটি জায়গায় আটকে রাখা হয়। পরে মধ্যরাতে তাঁদের উদ্ধার করা হলেও, ফেরার পথে তাঁদের গাড়িতে পাথর ছোড়া হয় এবং ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনায় বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে (Supreme Court)।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, তিনি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দিতে চান না, কিন্তু পুরো পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিকেলের দিকে বিচারকদের ঘিরে ফেলা হয় এবং রাত পর্যন্ত তাঁদের উদ্ধার করা যায়নি বলে আদালতে উল্লেখ করা হয় (Supreme Court)।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, এই ঘটনায় আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন ছিল। তাঁর মতে, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝায়। তিনি বলেন, বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি এবং কোনওভাবেই এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা যায় না (Supreme Court)।
আদালতে আইনজীবীরাও এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, আগে বিচারকদের ভয় দেখানো হলেও এখন সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রধান বিচারপতি জানান, হাইকোর্টের তরফে একটি চিঠিতে বলা হয়েছে যে, ঘটনাস্থলে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন না। পরে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করার পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। রাতের পর বিচারকদের মুক্ত করা হলেও ফেরার সময় তাঁদের উপর আবার হামলা হয় বলে অভিযোগ।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে বিচারকরা কাজ করছেন সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালত আরও জানায়, এটি সাধারণ ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে। বিচারকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়।
একই সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কেন সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তার জবাব চাওয়া হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিচারকদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।











