মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East Crisis) যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেছিলেন, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে পার করাতে মার্কিন নৌসেনা সাহায্য করেছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি সেই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যম থেকে মুছে দেন (Middle East Crisis)।
মঙ্গলবার এক পোস্টে ক্রিস রাইট লিখেছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে মার্কিন নৌসেনা একটি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ প্রণালী পার করিয়েছে (Middle East Crisis)। ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু পরে হঠাৎই সেই পোস্ট মুছে দেওয়া হয়।
এরপরই এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মার্কিন নৌসেনা কোনও তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার করায়নি (Middle East Crisis)। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট স্পষ্ট করে বলেন, আমেরিকা এখনও পর্যন্ত কোনও জাহাজকে ওই প্রণালী দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরাপত্তা দেয়নি (Middle East Crisis)। পরে এক মার্কিন আধিকারিকও জানান, এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনা কোনও জাহাজকে ওই পথে এসকর্ট করেনি।
ইরানও এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী কোনও তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার করিয়েছে—এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আমেরিকা বা তাদের মিত্রদের কোনও নৌবহর যদি ওই অঞ্চলে অস্বাভাবিক নড়াচড়া করে, তাহলে তা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে রুখে দেওয়া হবে।
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়ে আরও কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইরান যদি তেল পরিবহনে বাধা দেয়, তাহলে তার পরিণতি খুবই কঠোর হবে। তাঁর মতে, ইরান যদি কোনও খারাপ পদক্ষেপ করে, তাহলে সেই দেশের অস্তিত্বই বিপদের মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী এখন খোলা রয়েছে এবং প্রয়োজনে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও তিনি ভাবছেন।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। বিশ্বের বড় অংশের তেল এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। তাই এই জলপথে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি এই প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।












