ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে পাকিস্তান (Pakistan) জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংস বিক্ষোভ। তার জেরে পেশোয়ারে মার্কিন কনস্যুলেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। করাচি ও লাহোরেও ভিসা ও নাগরিক পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে (Pakistan)।
মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে পেশোয়ারের কনস্যুলেটের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। করাচি ও লাহোরে (Pakistan) বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ এবং নিরাপত্তা ঘেরাটোপের কারণে সব নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস খোলা থাকলেও সেখানকার কর্মীদের চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ জারি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথ হামলায় খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করার পর রবিবার থেকেই পাকিস্তানে (Pakistan) বিক্ষোভ ছড়ায়। বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
করাচিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে ভেঙে পড়ে উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গুলি চালানো হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন (Pakistan)।
উত্তরাঞ্চলের গিলগিট ও স্কারদুতে তিন দিনের কারফিউ জারি করেছে পাকিস্তান সরকার। গিলগিট ও স্কারদু এলাকায় অশান্তিতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু এবং ৮০ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। গিলগিটে একটি থানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একটি স্কুল ও একটি দাতব্য সংস্থার কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে।
স্কারদুতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক দলের দফতর এবং উন্নয়ন কর্মসূচির কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে প্রশাসনের দাবি।
পাকিস্তান একটি সুন্নি প্রধান দেশ হলেও সেখানে বড় শিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রয়েছে। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবারও বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।













