বাংলায় ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। পরিবর্তন যাত্রায় এসে রায়দিঘির মঞ্চ থেকে এই ইস্যুতেই সরব হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “হুমায়ুন ও মমতা একই মুদ্রার দুই পিঠ।” তাঁর দাবি, পরিকল্পনা করেই হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে বাইরে করা হয়েছে এবং তার পরেই বাবরি মসজিদ তৈরির বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে (Amit Shah)।
শাহ (Amit Shah) প্রশ্ন তোলেন, “আপনার বাংলায় আবার একটা বাবরি মসজিদ হচ্ছে, এটা কি হওয়া উচিত?” তাঁর অভিযোগ, তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে কাঠগড়ায় তোলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় তিনি বাবরি মসজিদ নির্মাণ করবেন। দিন হিসেবে বেছে নেন ৬ ডিসেম্বর, যেদিন ঐতিহাসিকভাবে বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়।
সেই সময় তিনি তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। দল প্রকাশ্যে তাঁর এই পদক্ষেপে অসন্তোষ জানায়। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে, এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যে ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে। কবীরকে সতর্ক করা হয়। কিন্তু তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। দলের অন্দরে শুরু হয় টানাপোড়েন। এর আগেও একাধিক মন্তব্যের জন্য শোকজের মুখে পড়েছিলেন তিনি।
পরিস্থিতি চরমে পৌঁছয় যখন ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে সভা করেন তৃণমূল নেত্রী। সেদিনই কবীরকে স্থানীয়ভাবে সাসপেন্ড করা হয়। একই দিনে তিনি নতুন দল গঠনের ঘোষণা করেন। জানান, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৯০টি আসনে জেতাই তাঁর লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল বা বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বাবরি মসজিদ নির্মাণ সম্ভব হবে না। তাই সরকারের চাবিকাঠি নিজের হাতে রাখতে ৯০টি আসন জেতা জরুরি। তিনি আরও জানান, তাঁর দল কোনও সরকারি অনুদান নেবে না।
তৃণমূলের তরফে অভিযোগ ওঠে, বিজেপির (Amit Shah) সঙ্গে যোগসাজশ করেই ভোট কাটার উদ্দেশ্যে এই নতুন দল তৈরি হয়েছে। বিজেপিও পাল্টা অভিযোগ করে। তবে এবার খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলার মাটিতে এসে তুষ্টিকরণের রাজনীতির অভিযোগ তুলে বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিলেন। ২০২৬-এর ভোটের আগে এই ইস্যু যে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।












