সরকারি প্রকল্পে উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ নতুন নয় (TMC)। কিন্তু কাটমানি দিলে দলে যোগদান এবং পদ পাওয়া যায় বলেই এবার বিস্ফোরক দাবি করলেন শাসকদলের এক নেতা (TMC)। এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র শোরগোল পড়েছে মালদহ জেলায়। বিষয়টি নিয়ে শাসকদলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি ভারতীয় জনতা পার্টি।
মালদহের (TMC) চাঁচলের বীরস্থলী এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসর কৃষক ক্ষেত মজদুর সেলের একটি দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বহু নেতা ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্লক সভাপতি স্বপন আলি অভিযোগ করেন, মোটা টাকা কাটমানি দিলেই দলে যোগদান থেকে শুরু করে পদ পাওয়া পর্যন্ত সবই সম্ভব হচ্ছে। তাঁর দাবি, সামান্য অঞ্চল সভাপতির পদও কাটমানির বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে এবং দলের নীতি নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা বড় পদগুলিতেও টাকার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা এতে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তিনি জানান।
এই বক্তব্যের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি জাকির হোসেন। তিনিও কৃষকদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়া এবং ব্লকে ব্লকে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ধান ক্রয় কেন্দ্রগুলিতে কৃষকদের কাছ থেকে টাকা তোলা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি দলীয় গোষ্ঠীকোন্দলের কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। উল্লেখ্য, এর আগে এই পদে ছিলেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন, পরে তাঁকে সরিয়ে জাকির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তৃণমূল নেতার এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি। জেলা বিজেপি কমিটির সদস্য কিষাণ কেডিয়া বলেন, তৃণমূলের নেতারাই স্বীকার করছেন যে পদ পেতে টাকা লাগে। তাঁর অভিযোগ, কাটমানি এবং ভাগবাটোয়ারার রাজনীতির কারণেই শাসকদলের অন্দরে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছেন এবং ভবিষ্যতে তার প্রভাব ভোটবাক্সে পড়বে বলেও দাবি করেন তিনি।













