তৃণমূল কংগ্রেসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায় (Mukul Roy)। সোমবার গভীর রাতে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল বাহাত্তর বছর। তাঁর প্রয়াণের খবরে রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া (Mukul Roy)।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি এবং সল্টলেক এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন (Mukul Roy)। গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানান, বহু লড়াইয়ে জয়ী হলেও শেষ লড়াইয়ে হেরে গেলেন তাঁর বাবা। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বাংলার রাজনীতিতে মুকুল রায়কে অনেকেই চাণক্য বলে উল্লেখ করতেন। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন গড়ে তোলা থেকে শুরু করে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। রাজ্যসভায় সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন। রাজনৈতিক কৌশল ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য দল ও রাজনীতিতে তাঁর আলাদা প্রভাব ছিল (Mukul Roy)।
পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন এবং নির্বাচনে জয়ী হন। তবে দুই হাজার একুশ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। সেই সময় থেকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যেতে শুরু করেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিধায়ক পদ বজায় রাখার নির্দেশ দেয় এবং কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি হয়। বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনের শেষে তাঁর প্রয়াণে বাংলার রাজনীতিতে এক শূন্যতা তৈরি হল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।












