সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ধর্মতলার (Dharmatala Violance) নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ষোলো জন জামিন পেয়েছেন। কিন্তু জামিন পাওয়ার পরও তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কি চলবে? যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি মামলার রেকর্ড রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে? সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগের তদন্ত কি বন্ধ হয়ে যাবে? এই সব প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
গত চব্বিশ জুলাই নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ধর্মতলায় আন্দোলনে (Dharmatala Violance) উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, আন্দোলনের মধ্যে হিংসার ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন সাংবাদিকও আক্রান্ত হন। এই ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে। আক্রান্ত সাংবাদিকদের অভিযোগের ভিত্তিতেও পৃথক মামলা দায়ের হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ মোট ষোলো জনকে গ্রেফতার করে।
এরপর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অযথা কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। যাঁদের কোনও ফৌজদারি রেকর্ড নেই বা যাঁরা অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাঁদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, তাঁরা এই সুরক্ষার আওতায় থাকবেন না বলেও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-সহ সাতটি রাজ্য এবং কেন্দ্রের কাছে রিপোর্টও তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
এই নির্দেশের পর ব্যাঙ্কশাল আদালত ধৃত (Dharmatala Violance) ষোলো জনের জামিন মঞ্জুর করে। এরপরই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অযথা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা যাবে। লালবাজার সূত্রেও জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে আইনজীবী অর্ককুমার নাগের মতে, জামিন পেলেই মামলা শেষ হয়ে যায় না। তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলতেই পারে। এফআইআরের ভিত্তিতে যদি কোনও তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত এগোবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই এবং যাঁরা ছাত্র, তাঁদের বিরুদ্ধে অযথা কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না।
আইনজীবীর বক্তব্য, কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া এবং তদন্ত বন্ধ হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। কাউকে গ্রেফতার না করা বা হয়রানি না করার নির্দেশ থাকলেও, মামলা খারিজ না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। সুপ্রিম কোর্ট যদি ভবিষ্যতে স্পষ্টভাবে তদন্ত বন্ধ বা মামলা খারিজের নির্দেশ দেয়, তবেই সেই মামলার কার্যকারিতা শেষ হবে। আপাতত এমন কোনও নির্দেশ না থাকায় ধর্মতলা কাণ্ডে দায়ের হওয়া মামলাগুলির তদন্ত আইন অনুযায়ী চলতেই পারে।






